ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ ঘণ্টায় ৯ বার লোডশেডিং, ২০ মিনিটের বেশি থাকছে না বিদ্যুৎ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৮

১২ ঘণ্টায় ৯ বার লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে খুলনার মানুষ।

খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ আসার পর ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা, শিল্প-কারখানা ও অনলাইনভিত্তিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় খুলনা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫২২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৪০৬ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১১৬ মেগাওয়াট।

একই সময়ে বরিশাল জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২৫ মেগাওয়াট। দুই জোন মিলিয়ে ৬৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৩১ মেগাওয়াট। এতে মোট ঘাটতি দাঁড়ায় ১৪৬ মেগাওয়াটে।

ওজোপাডিকোর হিসাবে, ওই সময়ে খুলনায় ৪২ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১৪, ঝিনাইদহে ১৩, কুষ্টিয়ায় ১০ এবং মাগুরায় ৮ মেগাওয়াটসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। বরিশাল বিভাগের কয়েকটি জেলাতেও একই সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

৩০ আগস্ট দুপুর ১টায় দুই জোনে মোট লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৯ মেগাওয়াটে। তখন ৮০৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৫৬৭ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে খুলনা অঞ্চলে ঘাটতি ছিল ১৬৯ মেগাওয়াট।

পরদিন ৩১ আগস্ট দুপুর ১টায়ও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। এ সময় ৭৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৭৬ মেগাওয়াট। দুই অঞ্চলে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার রাব্বি জানান, শনিবার বেলা আড়াইটা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত অন্তত নয়বার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এই বাসিন্দা বলেন, অনলাইনে কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো ক্লায়েন্টের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে কাজের ক্ষতির পাশাপাশি ক্লায়েন্ট হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি মিল-কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে নতুন ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ঘণ্টায় ৯ বার লোডশেডিং, ২০ মিনিটের বেশি থাকছে না বিদ্যুৎ

Update Time : ১১:৪২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ আসার পর ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা, শিল্প-কারখানা ও অনলাইনভিত্তিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় খুলনা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫২২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৪০৬ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১১৬ মেগাওয়াট।

একই সময়ে বরিশাল জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২৫ মেগাওয়াট। দুই জোন মিলিয়ে ৬৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৩১ মেগাওয়াট। এতে মোট ঘাটতি দাঁড়ায় ১৪৬ মেগাওয়াটে।

আরও পড়ুন  খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

ওজোপাডিকোর হিসাবে, ওই সময়ে খুলনায় ৪২ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১৪, ঝিনাইদহে ১৩, কুষ্টিয়ায় ১০ এবং মাগুরায় ৮ মেগাওয়াটসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। বরিশাল বিভাগের কয়েকটি জেলাতেও একই সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

৩০ আগস্ট দুপুর ১টায় দুই জোনে মোট লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৯ মেগাওয়াটে। তখন ৮০৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৫৬৭ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে খুলনা অঞ্চলে ঘাটতি ছিল ১৬৯ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন  পল্লবী শিশু হত্যা: ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন হস্তান্তর

পরদিন ৩১ আগস্ট দুপুর ১টায়ও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। এ সময় ৭৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৭৬ মেগাওয়াট। দুই অঞ্চলে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার রাব্বি জানান, শনিবার বেলা আড়াইটা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত অন্তত নয়বার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এই বাসিন্দা বলেন, অনলাইনে কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো ক্লায়েন্টের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে কাজের ক্ষতির পাশাপাশি ক্লায়েন্ট হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  লোডশেডিং কমবে: আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি মিল-কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে নতুন ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন।