লোডশেডিং কমবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিচ্ছে সরকার।
এই আশার কথা শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমে আসবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু জ্বালানি সংকট, বকেয়া বিল এবং কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। অনেক সময় দিনে মাত্র ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে চাহিদা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট।
এই ঘাটতির কারণেই দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত তেল ও কয়লা কিনতে পারছে না, ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং লোডশেডিং কমে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটে নেমে আসতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যবহৃত সরকারি জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং এসব জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, রেলওয়ের মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক অব্যবহৃত জমি রয়েছে, যেগুলো কাজে লাগিয়ে বড় আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করতে আগামী বাজেটে ব্যাটারি উৎপাদন ও আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এতে করে বিনিয়োগ বাড়বে এবং জ্বালানি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা বলা কঠিন। তাই বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কমে আসবে এবং লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

























