বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের শুরুতেই কঠিন এক প্রতিপক্ষ পেলেও কাগজে-কলমে এগিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচটির আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে নেইমারের অনুপস্থিতি এবং সেলেসাওদের সম্ভাব্য একাদশ।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দল ব্রাজিল নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় থাকা দলটি এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে মরিয়া কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
তবে ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নেইমারের না থাকা। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও সৃজনশীল এই ফুটবলার পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। ফলে আক্রমণভাগে নতুন সমীকরণ সাজাতে হচ্ছে কোচিং স্টাফকে।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারেন মাতেউস কুনিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ও জাতীয় দলে তার পারফরম্যান্স আশাবাদী করছে ব্রাজিল সমর্থকদের। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম এই ফরোয়ার্ড।
আক্রমণভাগের বাম পাশে থাকবেন দলের অন্যতম বড় তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গত কয়েক বছরে নিজেকে বিশ্বের সেরা উইঙ্গারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তার গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।
ডান প্রান্তে দেখা যেতে পারে রাফিনিয়াকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করা এবং দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা সুপরিচিত। ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার সমন্বয় ব্রাজিলের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে।
মাঠের মাঝখানে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারেন লুকাস পাকেতা। সৃজনশীল পাস, দূরপাল্লার শট এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। নেইমারের অনুপস্থিতিতে প্লেমেকারের দায়িত্ব অনেকটাই তার ওপর বর্তাবে।
মিডফিল্ডের রক্ষণাত্মক দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ কাসেমিরো। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসার নাম তিনি। তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন ব্রুনো গিমারেশ, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন।
রক্ষণভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে মারকিনিয়োস এবং গাব্রিয়েল মাগালায়েসকে দেখা যেতে পারে। দুজনই শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং আকাশে বল দখলে বেশ কার্যকর।
ফুল-ব্যাক পজিশনে খেলতে পারেন দানিলো ও ডগলাস। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে এসে সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা রয়েছে তাদের। আধুনিক ফুটবলে ফুল-ব্যাকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত এই দুই ডিফেন্ডার।
গোলপোস্টের নিচে থাকবেন আলিসন বেকার। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান তারকা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করার সক্ষমতা বহুবার দেখিয়েছেন। তার উপস্থিতি ব্রাজিলের রক্ষণকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সম্ভাব্য একাদশ অনুযায়ী ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নামতে পারে। যেখানে কুনিয়া থাকবেন একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে। তার পেছনে ভিনিসিয়ুস, পাকেতা এবং রাফিনিয়া আক্রমণ গঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে মরক্কোও নিজেদের শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে তারা প্রমাণ করেছিল যে বড় দলগুলোর জন্য তারা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। স্পেন ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা এখনও তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
তবে ম্যাচের আগে চোট সমস্যা ভুগাচ্ছে আফ্রিকার এই প্রতিনিধিকে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক নায়েফ আগুয়ের্দ ইনজুরির কারণে একাদশের বাইরে থাকতে পারেন। তার অনুপস্থিতি মরক্কোর রক্ষণে বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে।
আগুয়ের্দের পরিবর্তে ইসা দিওপ ও চাদি রিয়াদকে রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে। যদিও দুজনই অভিজ্ঞ, তারপরও আগুয়ের্দের নেতৃত্ব ও উপস্থিতি না থাকা দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া নুসাইর মাজরাউইয়ের খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। কাঁধের চোটে ভোগা এই ডিফেন্ডার ম্যাচের আগে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে মরক্কোর কোচিং স্টাফকে।
আরও একটি বড় ধাক্কা এসেছে এজ আবদের ইনজুরিতে। হাঁটুর লিগামেন্টে মাঝারি মাত্রার চোট পাওয়ায় তিনি পুরো গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছেন। তার অনুপস্থিতি মরক্কোর আক্রমণভাগের বিকল্প কমিয়ে দিয়েছে।
সবকিছু বিবেচনায় নিলে ম্যাচটিতে ব্রাজিলকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে। দলটির তারকাবহুল স্কোয়াড, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং আক্রমণভাগের গভীরতা তাদের বড় সুবিধা এনে দিচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
মরক্কো ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে তারা বড় দলগুলোর জন্য কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে। তাই ব্রাজিলকে জয় পেতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। বিশ্বকাপের শুরুতেই দুই দলের এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে দারুণ উপভোগ্য এক ম্যাচ।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ:
আলিসন বেকার; দানিলো, মারকিনিয়োস, গাব্রিয়েল মাগালায়েস, ডগলাস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেশ; রাফিনিয়া, লুকাস পাকেতা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র; মাতেউস কুনিয়া।
মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশ–
বোনো; মাজরাউই, ইসা দিওপ, চাদি রিয়াদ, আশরাফ হাকিমি; নাবিল এল আয়নাউই , আমিন বুয়াদি; বিলাল এল খান্নুস, আজেদিন উনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ; ইলিয়াস সাইবারি



























