মিরপুরে বাসে আগুনের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের কাছে চলন্ত অবস্থায় শিকড় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগে। সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দ্রুত দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বাসটি চলন্ত অবস্থায় থাকাকালে আগুন লাগে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তের বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় আরেকটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখানে অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনাতেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মিরপুরের এই ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটল, যখন এর আগের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ীতে একজন অটোরিকশাচালক আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
এ ছাড়া শুক্রবার রাতে কাফরুল থানার সামনে মিরপুর সুপার লিংকের একটি বাসে আগুনের ঘটনাও ঘটে। ফলে দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরপর এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি, চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মিরপুরে বাসে আগুনের ঘটনায় আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং মিরপুর-১-এর ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।




























