ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেজগাঁও মসজিদ থেকে আটক ১২ জনের ৩ দিনের রিমান্ড

তেজগাঁও মসজিদ থেকে আটক ১২ জন

তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সিটিটিসির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আটক ১২ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিটিটিসি)। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ ১২ জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সবাই হোয়াটসঅ্যাপের একটি ‘মিট আপ’ গ্রুপের সদস্য। তাঁদের ব্যবহৃত ফোন ও ওই গ্রুপের বার্তা বিশ্লেষণ করে উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সিটিটিসি জানায়, শুক্রবার গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের মসজিদে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক যাচাই শেষে ১২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আটক ব্যক্তিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে জানায় সিটিটিসি।

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিহাব উদ্দিন, মারজুক আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, রাশ্মি মিয়া, কামিছুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, আফিফ আহমেদ, মোহাইমিনুল হক, জাওমি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাব্বির আহমেদ ও জুনায়েদ আহমেদ।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করবে সিটিটিসি।

সিটিটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় এবং সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পুরোনো মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, আটক ২৩ জনের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তথ্য যাচাই শেষে ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের যাচাই ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও মসজিদ থেকে আটক ১২ জনের ৩ দিনের রিমান্ড

Update Time : ০৭:৫১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সিটিটিসির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আটক ১২ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিটিটিসি)। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ ১২ জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সবাই হোয়াটসঅ্যাপের একটি ‘মিট আপ’ গ্রুপের সদস্য। তাঁদের ব্যবহৃত ফোন ও ওই গ্রুপের বার্তা বিশ্লেষণ করে উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  পীরগাছায় ২০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই গৃহবধূ নিহত

সিটিটিসি জানায়, শুক্রবার গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের মসজিদে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক যাচাই শেষে ১২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আটক ব্যক্তিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে জানায় সিটিটিসি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-পাকিস্তান মাদক পাচার প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ ও সমঝোতা

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিহাব উদ্দিন, মারজুক আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, রাশ্মি মিয়া, কামিছুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, আফিফ আহমেদ, মোহাইমিনুল হক, জাওমি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাব্বির আহমেদ ও জুনায়েদ আহমেদ।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করবে সিটিটিসি।

আরও পড়ুন  কলেরা টিকা নিয়ে স্বস্তি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সাড়া

সিটিটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় এবং সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পুরোনো মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, আটক ২৩ জনের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তথ্য যাচাই শেষে ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের যাচাই ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।