ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, রাত পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থান Logo সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার? Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট স্টাইল ক্রিস্পি পটেটো ওয়েজেস Logo সুখবর! সৌদি উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেজির ঢাকা সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা Logo ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফিরলেন: চিকিৎসা শেষে সুখবর, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা Logo নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমানের সহযোগী চন্দনাইশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বর্তমানে সক্রিয় ২ কর্মী গ্রেপ্তার Logo আপেলের উপকারিতা: ৭টি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য উপকারিতা যা আপনাকে অবাক করবে Logo BTS গ্র্যামি বয়কট: গ্র্যামি থেকে সরানো হলো BTS-এর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ভিডিও Logo ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার: দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায়

প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ অনুমোদন, সংসদে আজ উপস্থাপন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৫৩৬

আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেটের চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মতি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদনের পর বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

 

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে এই বাজেটের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে মোট ব্যয়ের তুলনায় এই আয় যথেষ্ট না হওয়ায় বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি থাকছে।

 

হিসাব অনুযায়ী আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তাও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

 

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় সংসদে উপস্থিত থাকবেন।

 

সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতভিত্তিক বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। এবারের বাজেট দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই এবারের বাজেট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ জনগণও বাজেট ঘোষণার দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত এর সফলতা নির্ধারণ করবে। সংবিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্মতির মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত রূপ পায়। সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হবে।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং আলোচনা-পর্যালোচনার দিকেই নজর থাকবে সবার।

৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি

প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ অনুমোদন, সংসদে আজ উপস্থাপন

Update Time : ০১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেটের চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মতি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদনের পর বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

 

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে এই বাজেটের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে মোট ব্যয়ের তুলনায় এই আয় যথেষ্ট না হওয়ায় বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি থাকছে।

আরও পড়ুন  ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনের আশা, অর্থমন্ত্রীর

 

হিসাব অনুযায়ী আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তাও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

 

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় সংসদে উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

 

সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতভিত্তিক বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। এবারের বাজেট দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই এবারের বাজেট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ জনগণও বাজেট ঘোষণার দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন।

আরও পড়ুন  বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় রাজি বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

 

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত এর সফলতা নির্ধারণ করবে। সংবিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্মতির মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত রূপ পায়। সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হবে।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং আলোচনা-পর্যালোচনার দিকেই নজর থাকবে সবার।