ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

কুমিল্লায় নতুন আরেকটি ‘ওয়াসা’ গঠনের সিদ্ধান্ত

কুমিল্লা নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করতে নতুন একটি ওয়াসা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কুমিল্লা শহরে উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াসা গঠিত হলে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ এবং উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কুমিল্লা নগরীর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াসা গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কুমিল্লা শহরের নাগরিকদের জন্য কার্যকর ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ওয়াসা গঠন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শহরের জনসংখ্যা ও আবাসন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এজন্য পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় কুমিল্লা নগরীর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং নগরায়ণের চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ সংকট ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা শহরে বর্তমানে পানি সরবরাহের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি পৌঁছায় না এবং পুরোনো পাইপলাইনের কারণে পানির অপচয় হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সমস্যাও ক্রমেই বাড়ছে, যা নগরবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ।

নতুন ওয়াসা গঠিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বর্জ্যপানি শোধনাগার নির্মাণ এবং উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কুমিল্লা নগরীর নাগরিক সেবার মান বাড়বে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুধু পানি সরবরাহ নয়, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নতুন ওয়াসা গঠনের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নগর ব্যবস্থাপনায় আলাদা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থাকলে নাগরিক সেবার গুণগত মান বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা সবাই কুমিল্লার নাগরিক সেবার উন্নয়নে ওয়াসা গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচটি ওয়াসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, খুলনা ওয়াসা, রাজশাহী ওয়াসা ও সিলেট ওয়াসা। কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠিত হলে দেশে ওয়াসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ছয়টিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরগুলোর জন্য আলাদা ওয়াসা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। কারণ নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার চাপ বাড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এককভাবে সব সেবা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

ওয়াসা মূলত নগর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচালনা, ড্রেনেজ উন্নয়ন, বর্জ্যপানি শোধন এবং আধুনিক পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য এসব কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নগর এলাকায় পানি সংকট ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লায় ওয়াসা গঠিত হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আধুনিক শহরের জন্য নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সেবা নিশ্চিত না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই কুমিল্লার মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে ওয়াসা গঠন ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, নতুন ওয়াসা গঠিত হলে দীর্ঘদিনের পানি সংকট, ড্রেনেজ সমস্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে নগরবাসী আরও উন্নত নাগরিক সেবা পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রতিষ্ঠান গঠন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এখন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা ওয়াসার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরী হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসনের বিস্তারের কারণে শহরটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে নাগরিক সেবার চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লায় ওয়াসা গঠন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কুমিল্লাকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

Update Time : ০১:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কুমিল্লা নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করতে নতুন একটি ওয়াসা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কুমিল্লা শহরে উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াসা গঠিত হলে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ এবং উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কুমিল্লা নগরীর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াসা গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কুমিল্লা শহরের নাগরিকদের জন্য কার্যকর ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ওয়াসা গঠন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শহরের জনসংখ্যা ও আবাসন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এজন্য পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় কুমিল্লা নগরীর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং নগরায়ণের চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ সংকট ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা শহরে বর্তমানে পানি সরবরাহের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি পৌঁছায় না এবং পুরোনো পাইপলাইনের কারণে পানির অপচয় হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সমস্যাও ক্রমেই বাড়ছে, যা নগরবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ।

নতুন ওয়াসা গঠিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বর্জ্যপানি শোধনাগার নির্মাণ এবং উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কুমিল্লা নগরীর নাগরিক সেবার মান বাড়বে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুধু পানি সরবরাহ নয়, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নতুন ওয়াসা গঠনের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নগর ব্যবস্থাপনায় আলাদা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থাকলে নাগরিক সেবার গুণগত মান বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা সবাই কুমিল্লার নাগরিক সেবার উন্নয়নে ওয়াসা গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচটি ওয়াসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, খুলনা ওয়াসা, রাজশাহী ওয়াসা ও সিলেট ওয়াসা। কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠিত হলে দেশে ওয়াসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ছয়টিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরগুলোর জন্য আলাদা ওয়াসা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। কারণ নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার চাপ বাড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এককভাবে সব সেবা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

ওয়াসা মূলত নগর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচালনা, ড্রেনেজ উন্নয়ন, বর্জ্যপানি শোধন এবং আধুনিক পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য এসব কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নগর এলাকায় পানি সংকট ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লায় ওয়াসা গঠিত হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আধুনিক শহরের জন্য নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সেবা নিশ্চিত না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই কুমিল্লার মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে ওয়াসা গঠন ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, নতুন ওয়াসা গঠিত হলে দীর্ঘদিনের পানি সংকট, ড্রেনেজ সমস্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে নগরবাসী আরও উন্নত নাগরিক সেবা পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রতিষ্ঠান গঠন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এখন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা ওয়াসার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরী হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসনের বিস্তারের কারণে শহরটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে নাগরিক সেবার চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লায় ওয়াসা গঠন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কুমিল্লাকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।