ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গরমে ঘরেই বানান ৪ স্বাস্থ্যকর ফলের জুস, জেনে নিন রেসিপি Logo মুখে ফেসপ্যাক কতক্ষণ রাখবেন? জানুন সঠিক নিয়ম Logo প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়ল ড্যাফোডিলের প্রযুক্তি উদ্ভাবন Logo লিটন-মেহেদীর শাস্তি নিশ্চিত, এখনো ঠিক হয়নি জরিমানার অঙ্ক Logo তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান Logo সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo আমগাছ কাটার নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃরাতের আধারে নবাবগঞ্জে আম বাগান ধ্বংস Logo রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না বিএনপি Logo গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন Logo ফ্যাসিবাদের শিকড় বাহাত্তরের সংবিধানে, দাবি ড. দিলারা চৌধুরীর

হেপাটাইটিস এ ও ই: কীভাবে ছড়ায় এবং সহজেই ঝুঁকি এড়াবেন

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১০:৪০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫২৬

রাস্তার খাবার ও দূষিত পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ছবি: সংগৃহীত।

হেপাটাইটিস এ ও ই এমন দুটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু মানুষ এই দুই ধরনের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া এবং নিরাপদ পানির অভাব সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

রাস্তার পাশের ফুচকা, চটপটি, আখের রস কিংবা খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া বিভিন্ন খাবার অনেকেরই পছন্দের। তবে এসব খাবার যদি অপরিষ্কার পানি বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করা হয়, তাহলে হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হেপাটাইটিস এ সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ই তুলনামূলকভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি সংক্রমিত হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর যকৃত বা লিভারে আক্রমণ করে। এর ফলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, বমিভাব, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, পেটব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগের লক্ষণ শুরুতে স্পষ্ট না হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেপাটাইটিস এ ও ই প্রতিরোধ করা তুলনামূলক সহজ। সব সময় বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করা, খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রেতার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের বিষয়টি খেয়াল করা উচিত।

এ ছাড়া হেপাটাইটিস এ-এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে, যা অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে। শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া উপকারী হতে পারে।

ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনেক বড় রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। তাই হেপাটাইটিস এ ও ই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাবার ও পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই পারে এই ভাইরাসজনিত রোগ থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গরমে ঘরেই বানান ৪ স্বাস্থ্যকর ফলের জুস, জেনে নিন রেসিপি

হেপাটাইটিস এ ও ই: কীভাবে ছড়ায় এবং সহজেই ঝুঁকি এড়াবেন

Update Time : ১০:৪০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

হেপাটাইটিস এ ও ই এমন দুটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু মানুষ এই দুই ধরনের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া এবং নিরাপদ পানির অভাব সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

রাস্তার পাশের ফুচকা, চটপটি, আখের রস কিংবা খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া বিভিন্ন খাবার অনেকেরই পছন্দের। তবে এসব খাবার যদি অপরিষ্কার পানি বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করা হয়, তাহলে হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

হেপাটাইটিস এ সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ই তুলনামূলকভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি সংক্রমিত হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর যকৃত বা লিভারে আক্রমণ করে। এর ফলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, বমিভাব, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, পেটব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগের লক্ষণ শুরুতে স্পষ্ট না হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেপাটাইটিস এ ও ই প্রতিরোধ করা তুলনামূলক সহজ। সব সময় বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করা, খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রেতার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের বিষয়টি খেয়াল করা উচিত।

আরও পড়ুন  গভীর ঘুমের উপায়: চিকিৎসকের কার্যকর পরামর্শ

এ ছাড়া হেপাটাইটিস এ-এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে, যা অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে। শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া উপকারী হতে পারে।

ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনেক বড় রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। তাই হেপাটাইটিস এ ও ই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাবার ও পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই পারে এই ভাইরাসজনিত রোগ থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে।