আমগাছ কাটা নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা একটি আমবাগানে ঢুকে শত শত গাছ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বাগান এক রাতেই প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বাগানের মালিক। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী মাজেদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি প্রায় চার বছর আগে তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ৩৫০টি আমগাছ রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং অনেক গাছেই এবার ফল আসতে শুরু করেছিল। ভবিষ্যতে এই বাগান থেকেই পরিবারের আয়ের বড় উৎস তৈরি হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু এক রাতের ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের ২৯৬টি আমগাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে। সকালে বাগানে গিয়ে মালিক দেখতে পান অধিকাংশ গাছ মাটিতে লুটিয়ে রয়েছে। দৃশ্যটি দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার ভাষায়, প্রতিটি গাছ ছিল নিজের সন্তানের মতো। বছরের পর বছর যত্ন করে গড়ে তোলা বাগান এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, তা কখনও কল্পনাও করেননি।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ফলের বাগান গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। তাই এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন কৃষকের আর্থিক ক্ষতিই নয়, কৃষিখাতের জন্যও বড় ধাক্কা। আমগাছ কাটা নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য দোষীদের দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য উপযুক্ত সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




























