আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ইতিবাচক চিন্তা দিবস। জীবনের চাপ, দুশ্চিন্তা ও ব্যস্ততার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা সহজেই মনে জায়গা করে নিতে পারে। এতে মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ে। তাই ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে মনকে আরও স্থির ও আশাবাদী রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ইতিবাচক চিন্তা মানে জীবনের সমস্যা বা কষ্টকে অস্বীকার করা নয়। বরং কঠিন পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে তার মধ্যেও সম্ভাবনা খুঁজে দেখা এবং সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়াই এর মূল কথা। বাস্তবতাকে স্বীকার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার চেষ্টা ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক চিন্তার সঙ্গে মানসিক চাপ কমা ও সামগ্রিক সুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দীর্ঘায়ুর সম্পর্কও দেখা গেছে। তবে সব সময় জোর করে ভালো থাকার চেষ্টা করাও বাস্তবসম্মত নয়।
নেতিবাচক অনুভূতি বা কঠিন পরিস্থিতি এলে সেগুলোকে স্বীকার করা জরুরি। এরপর কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে ইতিবাচক চিন্তার দিকে এগিয়ে যাওয়াই ভালো অভ্যাস।
ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়তে প্রথমে নিজের নেতিবাচক ভাবনার কারণ খুঁজে বের করতে পারেন। কোন পরিস্থিতিতে আপনার মনে বেশি নেতিবাচক চিন্তা আসে, তা খেয়াল করুন। কারণগুলো বুঝতে পারলে চিন্তার ধরন পরিবর্তনের চেষ্টা করা সহজ হয়। এ জন্য নিজের ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো পরিস্থিতিতে শুধু খারাপ দিক না দেখে তার পাশাপাশি অন্তত একটি ভালো দিক খুঁজে দেখুন। প্রথমদিকে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও নিয়মিত চর্চা করলে অভ্যাস তৈরি হতে পারে। এতে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার বদলে পরিস্থিতির সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিদিন জীবনের ছোট ছোট ভালো বিষয়গুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে এমন কয়েকটি বিষয় মনে করতে পারেন, যেগুলো আপনাকে আনন্দ দিয়েছে। প্রিয় মানুষ, সুস্থতা, একটি ভালো সময় কিংবা ছোট কোনো অর্জনও হতে পারে কৃতজ্ঞতার কারণ।
নেতিবাচক পরিবেশ থেকেও কিছুটা দূরে থাকা দরকার। সব সময় হতাশা, অভিযোগ বা নেতিবাচক কথাবার্তার মধ্যে থাকলে নিজের মনেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইতিবাচক মনোভাবের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভালো লাগার বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন।
নিজের জন্য কিছু সময় রাখাও জরুরি। নিরিবিলি বসে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা কিংবা কিছুক্ষণ মোবাইল ও কাজ থেকে দূরে থাকা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিজের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং বিশ্রামের জন্য সময় রাখাও মানসিক সুস্থতার অংশ।
কোনো সমস্যা নিয়ে বারবার চিন্তা করার পরিবর্তে কীভাবে সেটি মোকাবিলা করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন। পাশাপাশি ছোট সাফল্যকেও গুরুত্ব দিন। বড় অর্জনের অপেক্ষা না করে নিজের প্রতিদিনের অগ্রগতি স্বীকার করলে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।
মন খারাপ থাকলে একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা না করে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। পছন্দের বই পড়া, গান শোনা, হাসির অনুষ্ঠান দেখা বা অন্য কোনো আনন্দদায়ক কাজে সময় কাটানোও মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চাও মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
জীবনে সব সময় ভালো সময় থাকবে না। ব্যর্থতা, হতাশা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আসতেই পারে। দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক চিন্তা, অতিরিক্ত হতাশা বা মানসিক চাপ সামলাতে সমস্যা হলে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পরিস্থিতি সামলাতে সহায়তা করতে পারে।


























