ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রবীণদের পুষ্টি কী খাবেন, কীভাবে যত্ন নেবেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৭

বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রবীণ সদস্যের পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা ও বিপাকীয় হার কিছুটা কমে গেলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুরুত্ব কমে না। বরং অপর্যাপ্ত খাবার, দাঁতের সমস্যা, ক্ষুধামান্দ্য বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে প্রবীণদের অপুষ্টি, পেশিক্ষয় ও দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিবারের প্রবীণ সদস্যের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও পানি নিশ্চিত করা জরুরি।

বয়স্কদের শরীরে বয়সের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষুধা ও স্বাদ-গন্ধের অনুভূতিতেও পরিবর্তন হতে পারে। এতে খাবারের পরিমাণ কমে যায়। আবার দাঁতের সমস্যা, খাবার চিবানো বা গিলতে অসুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগও পুষ্টি গ্রহণে বাধা তৈরি করতে পারে।

প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, দুধ ও দই, ডাল, ছোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস রাখা ভালো। এসব খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করে। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

বয়স বাড়লে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোট মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার। ভিটামিন ডি-এর জন্য উপযুক্ত সূর্যালোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবীণদের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। এ সমস্যা কমাতে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য আঁশ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন। খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটাচলা করলে শরীর সচল রাখতেও তা সহায়তা করতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত পানি পান করার কথা মনে রাখতে নাও পারেন। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস করানো প্রয়োজন। তবে কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের রোগ থাকলে কতটুকু তরল গ্রহণ করা যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রবীণদের খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি সতর্কতা দাবি করে। এসব রোগ থাকলে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করা উচিত। রোগ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে খাদ্যতালিকা তৈরি করা সবচেয়ে ভালো।

প্রবীণদের অপুষ্টি অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের চোখ এড়িয়ে যায়। তাই নিয়মিত ওজন ও খাবারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া, দুর্বলতা বা পেশিশক্তি কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক বার্ধক্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হওয়া বা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়াও অপুষ্টির সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রবীণ সদস্যের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও বিদ্যমান রোগ অনুযায়ী সুষম খাবার নিশ্চিত করতে পারলে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে সহায়তা করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ডলারে

প্রবীণদের পুষ্টি কী খাবেন, কীভাবে যত্ন নেবেন?

Update Time : ১০:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা ও বিপাকীয় হার কিছুটা কমে গেলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুরুত্ব কমে না। বরং অপর্যাপ্ত খাবার, দাঁতের সমস্যা, ক্ষুধামান্দ্য বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে প্রবীণদের অপুষ্টি, পেশিক্ষয় ও দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিবারের প্রবীণ সদস্যের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও পানি নিশ্চিত করা জরুরি।

বয়স্কদের শরীরে বয়সের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষুধা ও স্বাদ-গন্ধের অনুভূতিতেও পরিবর্তন হতে পারে। এতে খাবারের পরিমাণ কমে যায়। আবার দাঁতের সমস্যা, খাবার চিবানো বা গিলতে অসুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগও পুষ্টি গ্রহণে বাধা তৈরি করতে পারে।

প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, দুধ ও দই, ডাল, ছোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস রাখা ভালো। এসব খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করে। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

বয়স বাড়লে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোট মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার। ভিটামিন ডি-এর জন্য উপযুক্ত সূর্যালোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবীণদের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। এ সমস্যা কমাতে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য আঁশ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন। খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটাচলা করলে শরীর সচল রাখতেও তা সহায়তা করতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত পানি পান করার কথা মনে রাখতে নাও পারেন। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস করানো প্রয়োজন। তবে কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের রোগ থাকলে কতটুকু তরল গ্রহণ করা যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রবীণদের খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি সতর্কতা দাবি করে। এসব রোগ থাকলে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করা উচিত। রোগ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে খাদ্যতালিকা তৈরি করা সবচেয়ে ভালো।

প্রবীণদের অপুষ্টি অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের চোখ এড়িয়ে যায়। তাই নিয়মিত ওজন ও খাবারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া, দুর্বলতা বা পেশিশক্তি কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক বার্ধক্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হওয়া বা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়াও অপুষ্টির সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রবীণ সদস্যের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও বিদ্যমান রোগ অনুযায়ী সুষম খাবার নিশ্চিত করতে পারলে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে সহায়তা করা সম্ভব।