যে মেশিন কাপড় পরিষ্কার করে, সেটিও যে নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার—বিষয়টি অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার না করলে এর ভেতরে ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ, ময়লা, চুল, লোম ও খনিজ পদার্থ জমতে পারে। এর ফলে মেশিনে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ছত্রাক ও জীবাণু বৃদ্ধির পরিবেশও তৈরি হয়। তাই মেশিন ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
টপ লোড ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে প্রথমে মেশিনের ভেতর ও দরজার চারপাশের অংশ ভালোভাবে মুছে নিতে হবে। চাইলে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে একটি হালকা পরিষ্কারক তৈরি করা যায়। তবে মেশিনে রাবারের পাইপ বা কিছু নির্দিষ্ট রাবার উপাদান থাকলে ভিনেগার ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো। প্রচলিত টপ লোড মেশিনে থাকা অ্যাজিটেটর খুলে পরিষ্কার করা যায়, আর হাই-এফিশিয়েন্সি মডেলের ইমপেলারও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করতে হয়।
এরপর মেশিনে গরম পানির একটি সাইকেল চালিয়ে ওয়াশিং মেশিন ক্লিনিং ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাজারের ক্লিনিং ট্যাবলেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। ডিটারজেন্ট ও ফ্যাব্রিক সফটেনার রাখার জায়গাতেও ময়লা জমে কি না, সেটি পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে টপ লোড মেশিনের ডিসপেনসারে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ডিটারজেন্টের আস্তরণ দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।
ফ্রন্ট লোড মেশিনে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হয় দরজার চারপাশের রাবার গ্যাসকেট বা সিলের দিকে। কাপড় ধোয়ার পর সেখানে পানি, ময়লা ও ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ জমে থাকতে পারে। প্রথমে ফিল্টার ও ড্রেনের অংশ থেকে দৃশ্যমান ময়লা সরিয়ে নিতে হবে। এরপর রাবার সিল পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে মেশিনের সেলফ-ক্লিন ফাংশন ব্যবহার করা যায়। সেলফ-ক্লিন ফাংশন না থাকলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত গরম ও দীর্ঘ সাইকেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, ভিনেগার ও ব্লিচ কখনো একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। দুটিই আলাদা অবস্থায় পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হলেও একসঙ্গে মিশলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে পারে। তাই ভিনেগার দিয়ে কোনো অংশ পরিষ্কার করার পর সেটি ভালোভাবে মুছে ও শুকিয়ে নিতে হবে। এরপরই প্রয়োজন হলে ব্লিচ ব্যবহার করতে হবে এবং মেশিনের নিজস্ব নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। পরিষ্কার করার পর মেশিনের ভেতরে কোনো অবশিষ্টাংশ থাকলে অতিরিক্ত রিন্স সাইকেল চালানো যেতে পারে।
আদর্শভাবে ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করা উচিত প্রায় মাসে একবার। তবে দুর্গন্ধ, রাবার সিলে ময়লা বা ছত্রাক, ডিটারজেন্ট ড্রয়ারে আস্তরণ কিংবা ড্রামে দৃশ্যমান ময়লা দেখা দিলে আরও আগে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। প্রতিবার কাপড় ধোয়ার পর দরজা বা ঢাকনা কিছুটা খোলা রাখুন, যাতে ভেতরে বাতাস চলাচল করে দ্রুত শুকিয়ে যায়। রাবার সিলও শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন। নিয়মিত এসব ছোট অভ্যাসের সঙ্গে মাসিক গভীর পরিষ্কার রাখলে ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা সহজ হবে।



























