ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতদের স্মরণে সোমবার জাতীয় শোক পালন করেছে নেপাল। হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী ১৩ দিনের শোকপর্বের শেষ দিনে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সন্ধ্যায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজনও করা হয়। তবে এখনো উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান অভিযান চলায় সরকারি কর্মসূচি সীমিত রাখা হয়েছে।
হিমালয়ের একটি উপত্যকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বলে ধারণা করা আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নেপালের আরও ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল জানিয়েছেন, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো চলমান থাকায় সোমবার কোনো সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল বন্যায় বিধ্বস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কার্যালয় এবং বিদেশে থাকা নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
এদিকে নেপালের সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, কারণ সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। স্থল ও আকাশপথেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বা টানেল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, কেউ এখনো কোথাও আটকে থাকলে তাকে খুঁজে বের করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে নুয়াকোট জেলায়। বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতে আংশিকভাবে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ১০ দিনেরও বেশি সময় পর বাড়িটির চতুর্থ তলায় তাকে খুঁজে পান নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাকে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই সময়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে চীনা উদ্ধারকারীরাও ১২টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
নেপাল বন্যা পরিস্থিতিতে এখনো উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে দুর্গম ভূখণ্ড ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। অস্ট্রেলীয় টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিক সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে এবং প্রতিটি জায়গায় রয়েছে আলাদা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। নেপালের অংশে অন্তত ৫ হাজার ৮৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে। অন্যদিকে তিব্বতের দিকে চীনা সংবাদমাধ্যমের দেওয়া হিসাবে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৩১ জন এখনো নিখোঁজ। ফলে জাতীয় শোকের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল।



























