মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এরিক মর্লে এই প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার ও মঞ্চের বিভিন্ন পর্বের মাধ্যমে তাঁদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ফাইনালে ১১১টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মুকুট জিতেছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জিতে তিনি নিজের দেশকে এনে দিয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

জোহেইরি মোলা এর আগে মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫-এর খেতাব জয় করেন। সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পরই বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি। মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জয়ের মধ্য দিয়ে এবার তাঁর সেই যাত্রা পূর্ণতা পেল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে বিচারকদের নজর কাড়েন এই প্রতিযোগী।
জোহেইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করতে ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে একটি উদ্যোগ পরিচালনা করেন তিনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করা হয়। ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা তৈরিতেও তাঁদের সহায়তা করা হয়।

প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস। আর দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ফাইনালের শুরুতেই সেরা ৪০ জন প্রতিযোগীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বাছাই করে ঘোষণা করা হয় সেরা ২০, সেরা ১২ ও সেরা ৬ জনের নাম। প্রতিটি ধাপে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন দিক থেকে মূল্যায়ন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেরা ৬ জনকে নিয়ে চলে প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলো।
সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে ফাইনালে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক পর্ব। এসব পর্বে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশের দক্ষতা যাচাই করা হয়। শেষ ধাপে বিচারকেরা প্রতিযোগীদের নানা ধরনের প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের উত্তর ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্যদিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
এবারের আসরে মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সেরা কয়েকজনের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন বিশ্বসুন্দরী।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সামানজার সাঈদ। তিনি ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ পর্বে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬ জনের মধ্যে ছিলেন। তবে মূল ফাইনালে সেরা ৪০ প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি। ফলে এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধির বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের অপেক্ষা পূরণ হয়নি।
সবশেষে জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেসের মাথায় ওঠে মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট। ডমিনিকান রিপাবলিকের এই তরুণী এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর সমাজসেবামূলক কাজ ও নানা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা প্রতিযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মিস ওয়ার্ল্ডের নতুন বিজয়ী হিসেবে এখন তাঁর পরবর্তী যাত্রার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব।


























