কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকা দেখলে বিস্মিত হতে হয়। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট—সবই আছে তাঁর সংগ্রহে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন ফ্রান্সের এই তারকা। গোল করার দিক থেকেও তিনি গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। কিন্তু এত কিছুর পরও তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে একটি বড় শূন্যতা রয়ে গেছে—ব্যালন ডি’অর। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিশ্বের সেরা ব্যক্তিগত পুরস্কারটি জেতার স্বপ্ন দেখছেন এমবাপ্পে। এবার সেই স্বপ্ন পূরণের ব্যাপারে নিজেই বেশ আশাবাদী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
পিএসজিতে থাকাকালে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন এমবাপ্পে ২০২৩ সালে। সেবার ভোটে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে বড় স্বপ্ন নিয়েই পিএসজি ছেড়ে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাবে খেললে ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে থাকা সহজ হবে—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু রিয়ালে প্রথম দুই মৌসুমে বড় কোনো দলীয় শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। তবু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। বরং গোলের পর গোল করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তাই এবার এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাকে আগের চেয়ে বেশি দেখছেন।
গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন এমবাপ্পে। দলীয় সাফল্য না এলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মৌসুম ছিল দুর্দান্ত। বিশ্বকাপেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ২২, যা তাঁকে অনন্য এক জায়গায় নিয়ে গেছে। ফ্রান্সের হয়েও তিনি দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মোনাকো থেকে শুরু করে পিএসজি, ফ্রান্স ও রিয়াল—সব জায়গাতেই গোল করেছেন নিয়মিত। এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্বীকৃতির অপেক্ষা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এমবাপ্পে। তাঁর মতে, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলাটাই একজন ফুটবলারকে এই পুরস্কারের আলোচনায় রাখার জন্য যথেষ্ট। তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তিনি। এমবাপ্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, এবার তিনি পুরস্কারটি জয়ের যোগ্য দাবিদার হিসেবেই নিজেকে দেখছেন। একই সঙ্গে ভোটের বিষয়টিও মনে করিয়ে দিয়েছেন। কারণ শেষ সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নয়, ভোট দেবেন সাংবাদিকেরা। অর্থাৎ মাঠে নিজের কাজ শেষ করার পর এখন তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের ফলের জন্য।
এবারের ব্যালন ডি’অর দৌড়ে অবশ্য এমবাপ্পের সামনে রয়েছে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাজির বাজারে ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালও আছেন আলোচনার কেন্দ্রে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স তাঁকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। অন্যদিকে রদ্রিও বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জিততে চাইলে তাঁকে টপকাতে হবে একাধিক বিশ্বমানের তারকাকে।
তবু এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা যথেষ্ট শক্ত। রিয়ালের হয়ে ১০৭ ম্যাচে ৯০ গোল করার পর তাঁর গোল করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কম। ক্যারিয়ারে আটবার লিগের গোল্ডেন বুটও জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। অথচ চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এখনো অধরা, আর ব্যালন ডি’অরও আসেনি। মজার বিষয় হলো, এমবাপ্পে পিএসজি ছাড়ার পরই প্যারিসের ক্লাবটি টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। তবে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না ফরাসি তারকা। তাঁর নজর এখন সামনে—নিজের সেরা ফুটবল খেলা এবং অবশেষে বহুদিনের অপেক্ষার ব্যালন ডি’অরটি নিজের করে নেওয়া।




























