হ্যারি কেইন এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের কথা ভাবছেন না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ইংল্যান্ড অধিনায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি জানিয়েছেন, পরের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেইন বলেন, চার বছর পর তিনি কেমন খেলবেন, সেটিই ঠিক করবে তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। বর্তমানে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তাঁর ভাষায়, এখনও অনেক সময় বাকি এবং ফুটবলে চার বছরে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।
৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া এই স্ট্রাইকার বলেন, বয়স সবসময়ই বাধা নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির কথা উল্লেখ করেন। কেইনের মতে, ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করছেন, তা অন্য ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাই বয়সের কারণে এখনই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টানতে চান না তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের বিশ্বকাপ যাত্রা অবশ্য হতাশারই গল্প। ২০১৮ সালে গোল্ডেন বুট জিতে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ইংল্যান্ড থেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে, আর এবার বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও দুইবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তাঁর দল। এত সাফল্যের কাছাকাছি গিয়েও ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ স্পষ্ট ছিল তাঁর কণ্ঠে।
সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে কেইন বলেন, প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এক গোলে এগিয়ে থাকার পরও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের কৌশল বদলে ম্যাচে ফিরে আসে এবং সেই সুযোগটাই কাজে লাগায়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুলের কারণেই ইংল্যান্ডকে বিদায় নিতে হয়েছে।
তবে হতাশার মধ্যেও আশাবাদী ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান দলের ভিত্তি শক্ত এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রয়েছে। আপাতত বিশ্রামের পর নতুন মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দিতে চান কেইন। পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে সামনে আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যও ধরে রাখতে চান তিনি। তাই এখনই বিদায়ের ঘোষণা নয়, বরং সময়ের অপেক্ষায় থাকছেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলদাতা।



























