ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ডিএনসিসির নতুন বাজেট, সড়ক-ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

ডিএনসিসির নতুন বাজেট উপস্থাপন করেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর গুলশান-২-এর নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম রাখা হয়েছে।

প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএনসিসির মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এবার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তুলনামূলক ছোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর প্রয়োজনীয় সেবাগুলো অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রারম্ভিক স্থিতি হিসেবে রাখা হয়েছে ৬৬০ কোটি টাকা। সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে ৯৬৫ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা এবং সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে ৯৬৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় ৮৩ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৪২৭ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরী হওয়ায় নাগরিক সমস্যাগুলো জটিল আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর অভাব, খাল ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশাসক জানান, শুরুতে বাজেট ঘাটতি থাকলেও সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা নিধন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ উল্লেখযোগ্য।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে নাগরিক সেবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। দ্রুত নগর সেবা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধারের কাজও নতুন বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি।

‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, প্রথমে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণও প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের নিষিদ্ধের দাবি, ফিফাকে চিঠি

ডিএনসিসির নতুন বাজেট, সড়ক-ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব

Update Time : ১০:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর গুলশান-২-এর নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম রাখা হয়েছে।

প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএনসিসির মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এবার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তুলনামূলক ছোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর প্রয়োজনীয় সেবাগুলো অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রারম্ভিক স্থিতি হিসেবে রাখা হয়েছে ৬৬০ কোটি টাকা। সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে ৯৬৫ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা এবং সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ব্যবস্থা

ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে ৯৬৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় ৮৩ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৪২৭ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরী হওয়ায় নাগরিক সমস্যাগুলো জটিল আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর অভাব, খাল ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৭ সালে ৪.৫% হতে পারে

দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশাসক জানান, শুরুতে বাজেট ঘাটতি থাকলেও সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা নিধন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ উল্লেখযোগ্য।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে নাগরিক সেবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। দ্রুত নগর সেবা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধারের কাজও নতুন বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, প্রথমে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণও প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।