ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিডিবিএলের ১৬তম এজিএম অনুষ্ঠিত, উপস্থাপন হলো বার্ষিক প্রতিবেদন Logo স্বপ্নে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, লাভজনক করার বড় পরিকল্পনা এসিআইয়ের Logo জীবন বদলে দেওয়া গল্প: নাঈম তুষারের আত্মহত্যা থেকে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা Logo খেলাপি ঋণ আদায়ে আসছে নতুন আইন, দায়িত্ব পাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান Logo নুরুল আফছারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, পেলেন এশিয়া প্রেস্টিজ সিইও অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান: হৃদয়ছোঁয়া সত্য, অদম্য সংগ্রাম ও অদৃশ্য ক্ষত Logo স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে ধাক্কা, ইলন মাস্কের সম্পদও কমল Logo স্পেসএক্স শেয়ার দর পতন: ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা Logo দারিদ্র্য জয় করে ১০০ কোটি বাজেটের ছবির মুখ ভাগ্যশ্রী Logo সোহিনী সরকার দিলেন দারুণ সুখবর! মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী

খেলাপি ঋণ আদায়ে আসছে নতুন আইন, দায়িত্ব পাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৮

খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন যুগ, ব্যাংকের বোঝা কমাতে আসছে ডামা আইন। ছবি: সংগৃহীত

খেলাপি ঋণ আদায় আরও কার্যকর করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন’ বা ডামা (DAMA) আইন নামে প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিনে নেওয়া, পুনর্গঠন, আদায় এবং প্রয়োজনে জামানত বিক্রির দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতোমধ্যে আইনের খসড়া প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত আহ্বান করেছে।

বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। আদালতে মামলা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সম্পদ বিক্রিতে জটিলতা এবং দুর্বল পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা বছরের পর বছর আটকে থাকে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি, অবলোপন করা, পুনঃতফসিল করা এবং আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণ মিলিয়ে সংকটাপন্ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

প্রস্তাবিত আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ইউনিট লাইসেন্স প্রদান, তদারকি, নির্দেশনা জারি, জরিমানা আরোপ এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা পাবে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে লাইসেন্সধারী সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (AMC) এবং লোন সার্ভিসার কোম্পানি কাজ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের মডেল সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবার বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো চাইলে তাদের খেলাপি ঋণ এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এরপর ঋণ পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন, জামানত ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন হলে সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব নেবে ওই কোম্পানিগুলো। শুধু ঋণ আদায় নয়, ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পুনর্বিন্যাস, নতুন বিনিয়োগকারী আনা, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর কিংবা ব্যবসার সম্পদ বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে পারবে তারা। অর্থাৎ, ব্যবসা সচল রেখেই ঋণ পুনরুদ্ধারের একটি বিকল্প কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোকে কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হতে হবে এবং নির্ধারিত মূলধন থাকতে হবে। পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের ব্যাংকিং, অর্থনীতি, আইন বা সম্পদ পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞ হতে হবে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ সদস্যকে স্বাধীন পরিচালক রাখার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া নতুনভাবে লোন সার্ভিসার কোম্পানি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সমঝোতা, পুনঃতফসিল, সম্পদের মূল্যায়ন, তথ্য সংগ্রহ এবং আদালতের মামলায় সহায়তা করবে। তবে তারা জনগণের কাছ থেকে আমানত নিতে পারবে না, নিজেরা বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে না এবং কোনো ধরনের জোরপূর্বক ঋণ আদায়ের সুযোগও পাবে না।

এদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান মনে করেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর করতে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোকে বাজারভিত্তিক মূল্যে খেলাপি ঋণ কেনার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ কেনাবেচা ও জামানত হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর করতে হবে। তা না হলে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাবে এবং খেলাপি ঋণের জন্য কার্যকর সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত ডামা আইন কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো দ্রুত খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে পারবে এবং নতুন ঋণ বিতরণে সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে তারল্য, সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিডিবিএলের ১৬তম এজিএম অনুষ্ঠিত, উপস্থাপন হলো বার্ষিক প্রতিবেদন

খেলাপি ঋণ আদায়ে আসছে নতুন আইন, দায়িত্ব পাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

Update Time : ১২:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খেলাপি ঋণ আদায় আরও কার্যকর করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন’ বা ডামা (DAMA) আইন নামে প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিনে নেওয়া, পুনর্গঠন, আদায় এবং প্রয়োজনে জামানত বিক্রির দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতোমধ্যে আইনের খসড়া প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত আহ্বান করেছে।

বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। আদালতে মামলা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সম্পদ বিক্রিতে জটিলতা এবং দুর্বল পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা বছরের পর বছর আটকে থাকে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন  নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ কবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি, অবলোপন করা, পুনঃতফসিল করা এবং আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণ মিলিয়ে সংকটাপন্ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

প্রস্তাবিত আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ইউনিট লাইসেন্স প্রদান, তদারকি, নির্দেশনা জারি, জরিমানা আরোপ এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা পাবে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে লাইসেন্সধারী সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (AMC) এবং লোন সার্ভিসার কোম্পানি কাজ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের মডেল সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবার বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো চাইলে তাদের খেলাপি ঋণ এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এরপর ঋণ পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন, জামানত ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন হলে সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব নেবে ওই কোম্পানিগুলো। শুধু ঋণ আদায় নয়, ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পুনর্বিন্যাস, নতুন বিনিয়োগকারী আনা, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর কিংবা ব্যবসার সম্পদ বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে পারবে তারা। অর্থাৎ, ব্যবসা সচল রেখেই ঋণ পুনরুদ্ধারের একটি বিকল্প কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার, নতুন তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোকে কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হতে হবে এবং নির্ধারিত মূলধন থাকতে হবে। পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের ব্যাংকিং, অর্থনীতি, আইন বা সম্পদ পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞ হতে হবে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ সদস্যকে স্বাধীন পরিচালক রাখার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া নতুনভাবে লোন সার্ভিসার কোম্পানি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সমঝোতা, পুনঃতফসিল, সম্পদের মূল্যায়ন, তথ্য সংগ্রহ এবং আদালতের মামলায় সহায়তা করবে। তবে তারা জনগণের কাছ থেকে আমানত নিতে পারবে না, নিজেরা বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে না এবং কোনো ধরনের জোরপূর্বক ঋণ আদায়ের সুযোগও পাবে না।

আরও পড়ুন  সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ালে কমতে পারে দুর্নীতি: অর্থমন্ত্রী

এদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান মনে করেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর করতে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোকে বাজারভিত্তিক মূল্যে খেলাপি ঋণ কেনার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ কেনাবেচা ও জামানত হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর করতে হবে। তা না হলে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাবে এবং খেলাপি ঋণের জন্য কার্যকর সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত ডামা আইন কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো দ্রুত খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে পারবে এবং নতুন ঋণ বিতরণে সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে তারল্য, সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।