আফগানিস্তানের বাসমতী চাল বাজারে বড় সুযোগ দেখতে পাচ্ছে ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সীমান্ত জটিলতার কারণে বিকল্প উৎস খুঁজছে কাবুল। এ পরিস্থিতিতে ভারত থেকে সরাসরি বাসমতী চাল আমদানির বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের চালের বাজারে পাকিস্তানের আধিপত্য ছিল। তবে সীমান্ত বন্ধ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং তুলনামূলক কম দামে ভারতীয় চাল পাওয়ার কারণে সেই অবস্থান এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে ভারতের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ থাকায় দেশটির প্রায় ১১০ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবেও আরও প্রায় ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের দাম পাকিস্তানের তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে পড়ছে ইসলামাবাদ।
এদিকে আফগানিস্তানের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে সরাসরি বাসমতী চাল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বর্তমানে দুবাই ও ইরানের মাধ্যমে ভারতীয় চাল কিনতে হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়। সরাসরি আমদানি শুরু হলে খরচ কমবে এবং সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনায় ইরানের বন্দর আব্বাস ব্যবহার করে চাল পরিবহনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং পণ্যবিনিময়ভিত্তিক বাণিজ্য নিয়েও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত আফগানিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণ শুকনা ফল আমদানি করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সরাসরি চাল বাণিজ্য শুরু হলে দক্ষিণ এশিয়ার চালের বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এতে আফগানিস্তানে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।




























