ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান Logo প্রস্রাবের রঙ দেখে বুঝবেন কোন রোগের ইঙ্গিত মিলছে Logo শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ৫টি বড় সিদ্ধান্ত Logo স্ট্রোক নাকি সাধারণ জ্ঞান হারানো? পার্থক্য জানুন Logo আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের কে এই লোপেজ Logo সৌরবিদ্যুৎচালিত হিমাগার পাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন, জানালেন কৃষিমন্ত্রী Logo বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্কালোনি, আর্জেন্টিনার বড় অভিযোগ Logo যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে ঢাকায় বর্ণিল আমেরিকান মেলা Logo হলান্ডকে থামানোর গোপন কৌশল জানেন আনচেলত্তি! Logo দুর্নীতি-অবহেলা হলেই ট্রান্সফার নয় সরাসরি চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে নতুন পরিকল্পনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব করার পরিকল্পনার কথা জানান — ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট এবং ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ বাংলাদেশে আসছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাজেট শুধু একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি রোডম্যাপ। বিশেষ করে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যনির্ভর চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এখানে শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, বিমানবন্দর এবং রেলপথও উন্নত করা হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে, যা বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দ্বার খুলবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশ উন্নয়নের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে এবং উৎপাদন খরচ কমবে।

মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, এসব অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ দ্রুত একটি উন্নত অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারের লক্ষ্য প্রথমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, এরপর প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক প্রভাব অর্থনীতিতে কিছু চাপ তৈরি করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক বছরে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং দেশ ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে নতুন পরিকল্পনা

Update Time : ০৫:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট এবং ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ বাংলাদেশে আসছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাজেট শুধু একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি রোডম্যাপ। বিশেষ করে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যনির্ভর চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চীনের সঙ্গে আরো গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এখানে শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, বিমানবন্দর এবং রেলপথও উন্নত করা হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

আরও পড়ুন  সেনাপ্রধানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে, যা বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দ্বার খুলবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশ উন্নয়নের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে এবং উৎপাদন খরচ কমবে।

মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, এসব অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ দ্রুত একটি উন্নত অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

আরও পড়ুন  ৫০-১৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারের লক্ষ্য প্রথমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, এরপর প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক প্রভাব অর্থনীতিতে কিছু চাপ তৈরি করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক বছরে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং দেশ ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।