ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চীনের সঙ্গে আরো গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

চীনের সঙ্গে শিল্প অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ যাত্রায় চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি, যোগাযোগ ও উৎপাদন খাতে চীনের বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুধু শ্রমনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, কারিগরি সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উভয় দেশই এ অংশীদারিত্ব থেকে লাভবান হতে পারে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান করছে।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে চীনা বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপনে চীনা কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসবে এবং এর মাধ্যমে দেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

গত এক দশকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত অবকাঠামো ছাড়া টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তাই অবকাঠামো খাতে চলমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ চীনের উন্নত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী।

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময় উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করা। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতের সম্প্রসারণ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। চীনের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়লে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্যের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিল্প অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার। পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক করে তুলতে চীনের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিওনেল মেসিকে নিয়ে নতুন উন্মাদনা, এআই ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা

চীনের সঙ্গে আরো গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১০:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ যাত্রায় চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি, যোগাযোগ ও উৎপাদন খাতে চীনের বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুধু শ্রমনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, কারিগরি সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উভয় দেশই এ অংশীদারিত্ব থেকে লাভবান হতে পারে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  নিজ জেলা বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার সফরে গেছেন

প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান করছে।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে চীনা বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপনে চীনা কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসবে এবং এর মাধ্যমে দেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

গত এক দশকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত অবকাঠামো ছাড়া টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তাই অবকাঠামো খাতে চলমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ চীনের উন্নত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দামে বড় ধস, এক ভরিতে কমলো ৪ হাজার টাকার বেশি

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময় উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করা। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতের সম্প্রসারণ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন  চীনা মুদ্রায় ইরান থেকে তেল কিনছে ভারত, বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। চীনের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়লে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্যের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিল্প অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার। পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক করে তুলতে চীনের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।