বাণিজ্য সুরক্ষা জোরদার না করলে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। তাই অন্যায্য আমদানির প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু রপ্তানি বাড়ানো বা নতুন বাজার খোঁজাই যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম মেনে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিবেদনে সরকার, শিল্প খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বাণিজ্য প্রতিরক্ষা কাউন্সিল গঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্য সুরক্ষা সহায়তা কেন্দ্র, তথ্য বিনিময়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাজারে বর্তমান শুল্ক সুবিধা কমে যাবে। এতে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে এবং দেশীয় শিল্প অন্যায্য আমদানির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। বিদেশি পণ্য কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, দেশীয় শিল্প কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কর্মসংস্থান বা উৎপাদনে কী প্রভাব পড়ছে—এসব তথ্য ছাড়া অ্যান্টি-ডাম্পিং বা সেফগার্ড ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ ও শেয়ার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের অনেক শিল্প সমিতির কাছে আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় তথ্য নেই। ফলে ক্ষতির অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণ করা কঠিন হয় এবং বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, হিসাববিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক আইনের সমন্বিত প্রয়োগ ছাড়া কার্যকর বাণিজ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নীতিনির্ধারণ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুসরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়োপযোগী বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে এবং এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সহজ হবে।
























