একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা ফেরত নিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট প্রায় ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদন যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী আমানতের মূল টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার। তিনি জানান, আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিনই গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৪৪ জন একবারে তাদের পুরো আমানত তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজারে পৌঁছায়। তখন ফেরত চাওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীর সংখ্যা ও ফেরত চাওয়া অর্থ আরও বেড়ে প্রায় দেড় লাখ এবং ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সাবেক শাখা ও উপশাখাগুলোতে আমানতকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গ্রাহকদের সহযোগিতা করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের মূল টাকা পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আল-ওয়াদিয়া চলতি, মুদারাবা সঞ্চয়ী, এমটিডিআর ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন। তবে কেউ এককালীনভাবে পুরো মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ওই ক্ষেত্রে পরবর্তী মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে আমানতকারীরা মুনাফাসহ প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।
চরম আর্থিক সংকট, অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতিতে বিপর্যস্ত এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা আমানত আটকে ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছিল।




























