রেমিট্যান্স প্রবাহ আবারও দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৭৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ১১২ কোটি টাকার সমান। এ সময় দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২৬ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৮ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের শাখাগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে সবার শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যার মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার আধুনিকীকরণ এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মাসের বাকি দিনগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ একই ধারা বজায় থাকলে জুলাই মাস শেষে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ আরও বড় রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ শুধু দেশের অর্থনীতিকেই গতিশীল করছে না, লাখো পরিবারের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও আশা করছে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।



























