ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজের সেজদায় ভিন্ন ভাষায় দোয়া করা যাবে কি?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। | ছবি: সংগৃহীত

সেজদায় দোয়া করা মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। নামাজের এই মুহূর্তে বান্দা সবচেয়ে বেশি বিনয়ী অবস্থায় মহান আল্লাহর সামনে নত হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, বান্দা সেজদারত অবস্থায় তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। এ কারণে এ সময় বেশি বেশি দোয়া করার নির্দেশনা রয়েছে।

সেজদায় দোয়া করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের আমলও মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সেজদায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত দোয়াগুলোর ভাষা ছিল আরবি এবং সেগুলো ছিল শরিয়তসম্মত ও অর্থবহ। এ কারণেই নামাজের ভেতরে দোয়ার ভাষা নিয়ে ফকিহরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে হানাফি ফিকহে নামাজের নিজস্ব কাঠামো ও মর্যাদা বিবেচনায় দোয়ার ভাষার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

হানাফি ফিকহের মত অনুযায়ী, নামাজের ভেতরে আরবি ভাষায় দোয়া করা উচিত এবং কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত দোয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ নামাজ সাধারণ মানুষের কথাবার্তার জায়গা নয়; এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ আমল। সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজকে তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তিলাওয়াতের ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই নামাজের মধ্যে এমন বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, যা সাধারণ কথাবার্তার মতো হয়ে যায়।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। হাদিসে সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার কথা বলা হয়েছে এবং অন্য বর্ণনায় নামাজের শেষ অংশে নিজের পছন্দমতো দোয়া করার সুযোগের কথাও এসেছে। তবে এসব বর্ণনায় সরাসরি অনারবি ভাষায় দোয়া করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই হানাফি আলেমদের মতে, শুধু ‘যা ইচ্ছা দোয়া করো’ কথাটিকে নামাজের মধ্যে যেকোনো ভাষা ব্যবহারের অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দোয়ার বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা আর ভাষার স্বাধীনতা—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যারা আরবি ভাষায় স্বচ্ছন্দ নন, তাদের জন্য বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। তবে নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে মনের কথা বলা যায়। পাশাপাশি নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট ছোট মাসনুন দোয়া অর্থসহ শেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। সেজদার জন্য কয়েকটি সহজ ও সহিহ দোয়া ধীরে ধীরে মুখস্থ করে নিলে নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা সহজ হবে। এতে ইবাদতের প্রতি মনোযোগও বাড়তে পারে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, সেজদায় দোয়া করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হলেও তাহাজ্জুদ, ফরজ নামাজ বা অন্যান্য ইবাদতের মতোই এর ক্ষেত্রেও শরিয়তের বিধান অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নামাজের ভেতরে আরবি ও শরিয়তসম্মত দোয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আর কেউ আরবি দোয়া না জানলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই; নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মাসনুন দোয়াগুলো শেখা উত্তম। আল্লাহর কাছে দোয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নামাজের সেজদায় ভিন্ন ভাষায় দোয়া করা যাবে কি?

Update Time : ১১:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেজদায় দোয়া করা মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। নামাজের এই মুহূর্তে বান্দা সবচেয়ে বেশি বিনয়ী অবস্থায় মহান আল্লাহর সামনে নত হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, বান্দা সেজদারত অবস্থায় তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। এ কারণে এ সময় বেশি বেশি দোয়া করার নির্দেশনা রয়েছে।

সেজদায় দোয়া করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের আমলও মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সেজদায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত দোয়াগুলোর ভাষা ছিল আরবি এবং সেগুলো ছিল শরিয়তসম্মত ও অর্থবহ। এ কারণেই নামাজের ভেতরে দোয়ার ভাষা নিয়ে ফকিহরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে হানাফি ফিকহে নামাজের নিজস্ব কাঠামো ও মর্যাদা বিবেচনায় দোয়ার ভাষার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল

হানাফি ফিকহের মত অনুযায়ী, নামাজের ভেতরে আরবি ভাষায় দোয়া করা উচিত এবং কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত দোয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ নামাজ সাধারণ মানুষের কথাবার্তার জায়গা নয়; এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ আমল। সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজকে তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তিলাওয়াতের ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই নামাজের মধ্যে এমন বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, যা সাধারণ কথাবার্তার মতো হয়ে যায়।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। হাদিসে সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার কথা বলা হয়েছে এবং অন্য বর্ণনায় নামাজের শেষ অংশে নিজের পছন্দমতো দোয়া করার সুযোগের কথাও এসেছে। তবে এসব বর্ণনায় সরাসরি অনারবি ভাষায় দোয়া করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই হানাফি আলেমদের মতে, শুধু ‘যা ইচ্ছা দোয়া করো’ কথাটিকে নামাজের মধ্যে যেকোনো ভাষা ব্যবহারের অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দোয়ার বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা আর ভাষার স্বাধীনতা—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর গবেষণা ও অজানা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য

যারা আরবি ভাষায় স্বচ্ছন্দ নন, তাদের জন্য বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। তবে নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে মনের কথা বলা যায়। পাশাপাশি নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট ছোট মাসনুন দোয়া অর্থসহ শেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। সেজদার জন্য কয়েকটি সহজ ও সহিহ দোয়া ধীরে ধীরে মুখস্থ করে নিলে নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা সহজ হবে। এতে ইবাদতের প্রতি মনোযোগও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, সেজদায় দোয়া করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হলেও তাহাজ্জুদ, ফরজ নামাজ বা অন্যান্য ইবাদতের মতোই এর ক্ষেত্রেও শরিয়তের বিধান অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নামাজের ভেতরে আরবি ও শরিয়তসম্মত দোয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আর কেউ আরবি দোয়া না জানলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই; নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মাসনুন দোয়াগুলো শেখা উত্তম। আল্লাহর কাছে দোয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।