ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডিহাইড্রেশনেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, জানুন কেন Logo শিশুর স্বাভাবিক আচরণই কেন বাবা-মায়ের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে? Logo অবাক করা অজগর উদ্ধার: সাতক্ষীরার দোকানে ঢুকে পড়া অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত Logo জেব্রা ফিঞ্চ ভাষা রহস্য: এআইয়ের অসাধারণ সাফল্যে গবেষকের ১ লাখ ডলার পুরস্কার Logo : কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর গবেষণা ও অজানা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য Logo ইসলাম কী বলে, স্ত্রীর টাকা-কার অধিকার? Logo হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি Logo জারবীনি নিয়ে চমক, পলাশের নতুন জুটি কেন আলোচনায়? Logo সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন পে-স্কেলের গেজেট Logo রইদ সিনেমার ঐতিহাসিক সাফল্য, আমেরিকার জাতীয় সম্প্রচারে স্বীকৃতি

: কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর গবেষণা ও অজানা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য

: যুক্তরাজ্যের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি। ছবি: সংগৃহীত

কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামী ইতিহাস ও পবিত্র গ্রন্থ গবেষণায় নতুন করে এক ব্যাপক আলোড়ন ও গভীর আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত একটি অত্যন্ত বিরল ও প্রাচীন লিখিত অনুলিপি নিয়ে আধুনিক গবেষকদের সম্পূর্ণ নতুন একটি চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন সামনে এসেছে।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে এই ঐতিহাসিক কোরআনের পাণ্ডুলিপি সম্ভবত ইসলামের প্রথম যুগের সবচেয়ে প্রাচীন অনুলিপিগুলোর একটি এবং এর কিছু অংশ মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনকালেই চামড়া বা পার্চমেন্টের ওপর লেখা হয়ে থাকতে পারে। গবেষকরা এই প্রাচীন লিপিটি পরীক্ষা করে এর সময়কাল নির্ধারণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায় যে ১৮৬৯ সালে মধ্য এশিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর সমরকন্দে এই বিশেষ কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন তুর্কেস্তানের গভর্নর-জেনারেল জেনারেল কাফম্যান এই অমূল্য ও ঐতিহাসিক সম্পদটি সংগ্রহ করে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ইম্পেরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের জন্য পাঠান।

এই প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দাবি হলো যে এটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর নিজস্ব হস্তলিখিত কপির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে আধুনিক শরিয়াহ ও ইতিহাস গবেষকরা এই বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলছেন যে এর পক্ষে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তুর্কেস্তানে নেওয়ার পথে এটি রহস্যজনকভাবে চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত ১৯০৫ সালের দিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রত্নতত্ত্ব সমিতির বিশেষ উদ্যোগে এই মূল পাণ্ডুলিপির মাত্র ৫০টি অত্যন্ত উচ্চমানের ও বিলাসবহুল হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

বর্তমানে এই বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি এর প্রতিটি প্রতিলিপির ওজন প্রায় ১৮ কেজি এবং এর প্রাচীন আরবি লিখনরীতি ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস ও লিপির বিকাশ বুঝতে গবেষকদের অত্যন্ত সাহায্য করছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের পূর্ববর্তী ইসলামিক প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদনটি লিংকের মাধ্যমে পড়ে দেখতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিহাইড্রেশনেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, জানুন কেন

: কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর গবেষণা ও অজানা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য

Update Time : ০২:২১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামী ইতিহাস ও পবিত্র গ্রন্থ গবেষণায় নতুন করে এক ব্যাপক আলোড়ন ও গভীর আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত একটি অত্যন্ত বিরল ও প্রাচীন লিখিত অনুলিপি নিয়ে আধুনিক গবেষকদের সম্পূর্ণ নতুন একটি চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন সামনে এসেছে।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে এই ঐতিহাসিক কোরআনের পাণ্ডুলিপি সম্ভবত ইসলামের প্রথম যুগের সবচেয়ে প্রাচীন অনুলিপিগুলোর একটি এবং এর কিছু অংশ মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনকালেই চামড়া বা পার্চমেন্টের ওপর লেখা হয়ে থাকতে পারে। গবেষকরা এই প্রাচীন লিপিটি পরীক্ষা করে এর সময়কাল নির্ধারণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন।

আরও পড়ুন  দুপুরের ঘুম শিশু বিকাশে কেন জরুরি

ঐতিহাসিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায় যে ১৮৬৯ সালে মধ্য এশিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর সমরকন্দে এই বিশেষ কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন তুর্কেস্তানের গভর্নর-জেনারেল জেনারেল কাফম্যান এই অমূল্য ও ঐতিহাসিক সম্পদটি সংগ্রহ করে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ইম্পেরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের জন্য পাঠান।

এই প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দাবি হলো যে এটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর নিজস্ব হস্তলিখিত কপির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে আধুনিক শরিয়াহ ও ইতিহাস গবেষকরা এই বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলছেন যে এর পক্ষে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচ: দারুণ লড়াইয়ে কার জয়?

রাশিয়ার ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তুর্কেস্তানে নেওয়ার পথে এটি রহস্যজনকভাবে চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত ১৯০৫ সালের দিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রত্নতত্ত্ব সমিতির বিশেষ উদ্যোগে এই মূল পাণ্ডুলিপির মাত্র ৫০টি অত্যন্ত উচ্চমানের ও বিলাসবহুল হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

আরও পড়ুন  রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ

বর্তমানে এই বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি এর প্রতিটি প্রতিলিপির ওজন প্রায় ১৮ কেজি এবং এর প্রাচীন আরবি লিখনরীতি ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস ও লিপির বিকাশ বুঝতে গবেষকদের অত্যন্ত সাহায্য করছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের পূর্ববর্তী ইসলামিক প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদনটি লিংকের মাধ্যমে পড়ে দেখতে পারেন।