রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ পায়ের তালু জ্বালা করা বা পেশিতে টান ধরা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কখনো পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যায়, আবার কখনো মনে হয় পেশির ভেতরের শিরা-মাংসপেশি যেন মোচড় দিয়ে ধরেছে। এসব উপসর্গ সবসময় একই কারণে হয় না; শরীরে পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে স্নায়ু বা রক্ত চলাচলের সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।
পায়ের তালু জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটা, গরমে শরীরে পানি কমে যাওয়া কিংবা পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি-গ্রুপের ঘাটতি, ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা বা পায়ের স্নায়ুতে চাপ পড়লেও জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
অন্যদিকে রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরাকে সাধারণভাবে মাসল ক্র্যাম্প বলা হয়। এ সময় পেশি হঠাৎ শক্ত হয়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত তীব্র ব্যথা থাকতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, ব্যায়াম, শরীরে পানি বা কিছু খনিজের ঘাটতি এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
পেশিতে টান ধরার সময় অনেকে পায়ের ভেতরে শিরা বা পেশি গোল হয়ে পাকিয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি পান। আসলে এটি সাধারণত পেশির আকস্মিক সংকোচন। আক্রান্ত পেশিতে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করা, পা সোজা করে হালকা স্ট্রেচ করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে আরাম পাওয়া যায়।
তবে বারবার পায়ের তালু জ্বালা করা বা পেশিতে টান ধরা হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনির রোগ, স্নায়ুর সমস্যা থাকলে কিংবা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে এসব উপসর্গের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
পায়ের সঙ্গে অসাড়তা, ঝিনঝিন, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ব্যথা বা হাঁটতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একইভাবে একটি পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, লাল বা গরম হয়ে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথা শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
পায়ের অস্বস্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় না থাকা এবং ঘুমের আগে হালকা স্ট্রেচিং উপকারী হতে পারে। তবে শুধু ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি হয়েছে মনে করে নিজের ইচ্ছায় সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।



























