ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে নাটোরে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠক সংগঠন শুভসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এতে শুভসংঘের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে রোগের লক্ষণ, এডিস মশার প্রজননস্থল, প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে কী করণীয়—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়। পথচারী, দোকানদার, রিকশাচালক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সচেতন করা হয়।
শুভসংঘের সদস্যরা জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। শুধু নিজ বাড়ি নয়, আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।
সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘১০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ পরিচালনা করলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতার অভাবই অনেক সময় রোগ বিস্তারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ক্যাম্পেইনে স্থানীয় বাসিন্দারা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত হলে মানুষ আরও বেশি সতর্ক হবে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে আগ্রহী হবে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করলে এর ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার, পূর্ণহাতা পোশাক পরিধান, জানালা-দরজায় নেট লাগানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধী উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
শুভসংঘের সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় নাটোরে শুভসংঘের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।



























