ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম উপসর্গে ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২ শিশুর মৃত্যু

হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত

হামের প্রাদুর্ভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করায় মহামারি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকেরা। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও ময়মনসিংহে আরও ২ নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা সত্ত্বেও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এই রোগের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র সিলেট বিভাগেই মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ জনে। একই সময়ে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৮০ জন আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ২৫৮ জন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় সঠিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহেও এই মারাত্মক হামের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই একটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৯ জন আক্রান্ত শিশু। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসা শেষে গত একদিনে ২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা বা আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আক্রান্ত রোগীকে ঘরের একাকী স্থানে রেখে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সর্বদা শিশুদের দ্রুত ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়।

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হামের টিকা না নেওয়া শিশুরা এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করা হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২ শিশুর মৃত্যু

Update Time : ১০:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

হামের প্রাদুর্ভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করায় মহামারি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকেরা। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও ময়মনসিংহে আরও ২ নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা সত্ত্বেও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এই রোগের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র সিলেট বিভাগেই মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ জনে। একই সময়ে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৮০ জন আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ২৫৮ জন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় সঠিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন  টিকা কর্মসূচি শেষ, তবু নিয়ন্ত্রণে আসেনি হাম

অন্যদিকে ময়মনসিংহেও এই মারাত্মক হামের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই একটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৯ জন আক্রান্ত শিশু। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসা শেষে গত একদিনে ২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আরও পড়ুন  টেকনাফে ৩০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, অস্ত্র জব্দ

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা বা আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আক্রান্ত রোগীকে ঘরের একাকী স্থানে রেখে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সর্বদা শিশুদের দ্রুত ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়।

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হামের টিকা না নেওয়া শিশুরা এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন  হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করা হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।