ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে, শিক্ষকদের অবসর টাকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিক্ষকদের অবসর টাকার একাংশ ছাড় করা হয়েছে। ছবি: এআই

শিক্ষকদের অবসর টাকা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার দিন কিছুটা হলেও শেষ হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবসর ও কল্যাণসুবিধার একাংশের অর্থ ছাড় করেছে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ পেতে অনেক শিক্ষককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অনুকূলে টাকা ছাড় হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আপাতত তাঁরা পুরো প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না।

অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে অবসরসুবিধার একাংশের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কল্যাণসুবিধার আওতায় ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছেছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অবসর টাকা পরিশোধে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের পর তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, কাগজপত্রের ভুল এবং তথ্য যাচাইয়ের সমস্যাও অর্থ ছাড়ে বাধা তৈরি করেছে। বর্তমানে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও আবেদনের তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে অর্থ ছাড় আটকে যাচ্ছে। সংশোধনের পর পুনরায় টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে এবার যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, সেটিই শিক্ষকদের চূড়ান্ত প্রাপ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অর্থের একটি অংশ এখন পরিশোধ করা হচ্ছে। কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রে কেউ পেয়েছেন কয়েক হাজার টাকা, আবার কেউ পেয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। অবসরসুবিধার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাঁদের মোট প্রাপ্য এর চেয়ে বেশি, তাঁদের বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, এই বকেয়া অর্থ দ্রুত দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দ দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বর্তমানে আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জনের অবসরসুবিধার পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ অবসরসুবিধা বোর্ডে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবার দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান তহবিল দিয়ে সব আবেদনকারীর পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রেও পুরো অর্থ দিতে আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এ কারণে সরকারি বিশেষ বরাদ্দই এখন বড় ভরসা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকদের অবসর টাকা পরিশোধের এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা কেটে অবসর ও কল্যাণ তহবিলে জমা করা হয়। সেই অর্থ, সুদ এবং সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হলে অপেক্ষমাণ শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো প্রাপ্য দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে অবসরের পর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাকা হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষারও স্থায়ী অবসান ঘটতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে, শিক্ষকদের অবসর টাকা

Update Time : ০৮:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষকদের অবসর টাকা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার দিন কিছুটা হলেও শেষ হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবসর ও কল্যাণসুবিধার একাংশের অর্থ ছাড় করেছে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ পেতে অনেক শিক্ষককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অনুকূলে টাকা ছাড় হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আপাতত তাঁরা পুরো প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না।

অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে অবসরসুবিধার একাংশের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কল্যাণসুবিধার আওতায় ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছেছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  এইচএসসি প্রশ্ন ফাঁস গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অবসর টাকা পরিশোধে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী অবসরের পর তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, কাগজপত্রের ভুল এবং তথ্য যাচাইয়ের সমস্যাও অর্থ ছাড়ে বাধা তৈরি করেছে। বর্তমানে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও আবেদনের তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে অর্থ ছাড় আটকে যাচ্ছে। সংশোধনের পর পুনরায় টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে এবার যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, সেটিই শিক্ষকদের চূড়ান্ত প্রাপ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অর্থের একটি অংশ এখন পরিশোধ করা হচ্ছে। কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রে কেউ পেয়েছেন কয়েক হাজার টাকা, আবার কেউ পেয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। অবসরসুবিধার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাঁদের মোট প্রাপ্য এর চেয়ে বেশি, তাঁদের বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, এই বকেয়া অর্থ দ্রুত দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দ দেবে।

আরও পড়ুন  এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির একধাপ অগ্রগতি, সুযোগ ৩ এলাকায়

সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বর্তমানে আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জনের অবসরসুবিধার পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ অবসরসুবিধা বোর্ডে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবার দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান তহবিল দিয়ে সব আবেদনকারীর পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রেও পুরো অর্থ দিতে আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এ কারণে সরকারি বিশেষ বরাদ্দই এখন বড় ভরসা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  নতুন শিক্ষার কারিকুলাম বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

শিক্ষকদের অবসর টাকা পরিশোধের এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা কেটে অবসর ও কল্যাণ তহবিলে জমা করা হয়। সেই অর্থ, সুদ এবং সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হলে অপেক্ষমাণ শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো প্রাপ্য দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে অবসরের পর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাকা হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষারও স্থায়ী অবসান ঘটতে পারে।