নীলফামারীর সৈয়দপুরের তুলশীরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। জেলার কোনো বিদ্যালয় থেকে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর নতুন রেকর্ড।
রোববার প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৪০ জনের বৃত্তি অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ফলাফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান খান বলেন, এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সচেতন সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, একসঙ্গে ৪০ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয়জুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সাফল্য উদ্যাপন করেন। পরে বিদ্যালয়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং সবাই এই অর্জনকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী তাওসিফ ইসলাম (তাহিন) জানায়, তুলশীরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরে সে গর্বিত। ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও সেবাপরায়ণ চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় বলেও সে জানায়। তার এই স্বপ্নে শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরাও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও পল্লী চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য সরকারি বিদ্যালয়ই সবচেয়ে বড় ভরসা। তাঁর মতে, তুলশীরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং এখানে পড়ালেখায় অবহেলার সুযোগ নেই। এ কারণেই বিদ্যালয়টি সৈয়দপুরে একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।




























