পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখযোগ্য পরিমার্জন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এবারের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো কারিকুলাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের নলাম এলাকায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে সিলেবাস ও কারিকুলাম সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া।
তিনি বলেন, দুই বছরের কোর্স দুই বছরেই শেষ করতে হবে। পাশাপাশি ১২ বছরের শিক্ষাজীবন অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষায় কোনো ধরনের সেশনজট রাখা হবে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। খেলাধুলা, পারিবারিক মূল্যবোধ, বিতর্ক চর্চা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক না করে আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পারবে।
ড. মিলন জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমের অংশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শিক শিক্ষার বিষয়গুলো ধাপে ধাপে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে এবং এবার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




























