বায়লা ফিউচার সামিট ২০২৬ নামের একটি মেগা সম্মেলন আগামী ২০ ও ২১ জুলাই রাজধানীর মর্যাদাপূর্ণ র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনকে বেগবান করার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এই বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডারস অ্যালায়েন্স (বায়লা)। এবারের সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি, ৫০০-এরও বেশি শীর্ষ করপোরেট সিএক্সও এবং ২০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক মানের বক্তা অংশ নেবেন। থিংক বিয়ন্ড টুডে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সামিটে নেতৃত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্ডাস্ট্রি ৪.০, টেকসই উন্নয়ন, ভবিষ্যতের অর্থায়ন, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের নতুন প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হবে। আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে সরকার, শিল্প, শিক্ষাজগৎ, কূটনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দেবেন শিল্পোদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী ব্যবসায় ধারণা নিয়ে এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। নির্বাচিত দলগুলো গ্র্যান্ড ফিনালেতে শিল্পনেতাদের সামনে নিজেদের সমাধান ও ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
বায়লার সভাপতি আবরার হোসাইন সায়েম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের পোশাকশিল্পে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই এ আয়োজন।
সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি ও সামিটের ইভেন্ট ডিরেক্টর হাসিন আরমান অয়ন বলেন, শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক ও তরুণদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন সমাধান খুঁজে বের করাই এ প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধি এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের আগামী দিনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের সাম্প্রতিক সংস্কার, শ্রম অধিকার রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।এবারের বর্ণাঢ্য আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো দেশের বিভিন্ন শীর্ষসারির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ব্যবসায়িক আইডিয়া প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় তরুণ শিক্ষার্থীরা তৈরি পোশাক খাতের নানা সংকট সমাধানে নিজেদের উদ্ভাবনী ও আধুনিক ব্যবসায় ধারণা নিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রাথমিক রাউন্ড শেষে নির্বাচিত সেরা দলগুলো সরাসরি মূল সম্মেলনের গ্র্যান্ড ফিনালেতে দেশের শীর্ষ শিল্পনেতাদের সামনে তাদের আইডিয়া ও প্রযুক্তিগত সমাধান উপস্থাপনের এক অভাবনীয় সুযোগ পাবে।
সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি আবরার হোসাইন সায়েম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরএমজি খাতকে এক নম্বরে টিকিয়ে রাখতে হলে উদ্ভাবন, দ্রুত আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ দূরদর্শী নেতৃত্ব তৈরির কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ধারণ করেই তারা তরুণ ও অভিজ্ঞদের এক ছাদের নিচে আনছেন। অন্যদিকে সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি ও সামিটের ইভেন্ট ডিরেক্টর হাসিন আরমান অয়ন জানান, শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক ও তরুণদের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন সমাধান খুঁজে বের করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য।
বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যেভাবে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে, এই সামিট সেই ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী এই শিল্পে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এই আয়োজনটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। দুই দিনের এই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই এবং নেটওয়ার্কিং সেশন থেকে যে নতুন রোডম্যাপ বেরিয়ে আসবে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের চালিকাশক্তি হবে।



























