বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের পরিবর্তে এবার একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। শিক্ষা উপদেষ্টা এএনএম এহসানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন। সংসদে অনুমোদনের পর এটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর আইনটি কার্যকর হবে।
এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হলেও বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম কখনো শুরু হয়নি। গেজেট প্রকাশের পরও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
নতুন আইনের মাধ্যমে সেই পুরোনো আইন বাতিল করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাস্তবতা এবং উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় রেখেই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নয়, বরং বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অনুষদে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন কার্যকর হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঢাকাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, গবেষণা কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন শেষে গেজেট প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বহু প্রতীক্ষিত বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবে যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




























