ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বুধবার দুই জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত Logo মেসির পেনাল্টি মিসে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেল আর্জেন্টিনা Logo ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি Logo বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের নতুন রেকর্ড মেসির Logo তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের Logo টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার Logo ১৬৮ কন্টেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস Logo প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড | নতুন আইন পাস Logo সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ Logo হঠাৎ তীব্র জ্বর? যেসব লক্ষণে বুঝবেন এটি সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড | নতুন আইন পাস

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫০২

পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজি বন্ধে নতুন আইন পাস | ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। নতুন এই আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই পুরোনো আইন সংশোধন করা হয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর আগের আইনটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর না হওয়ায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’কে আইনি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা, হ্যাকিং বা গোপন করার মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষাকক্ষে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বা পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করলেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের বিষয়ে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ করা, প্রচার করা বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।

নতুন আইনে অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অবৈধ পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম বন্ধ করতেও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম নম্বর দেওয়া কিংবা ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি যথাযথ সতর্কতা নিয়েছিলেন, তাহলে তিনি দায়মুক্তি পাবেন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশুদের বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী হুইসেলব্লোয়ারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনের আওতায় সব অপরাধকে আমলযোগ্য করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সরকার মনে করছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে বাড়তে থাকা পরীক্ষা জালিয়াতি বন্ধে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন আইন কার্যকর হলে দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বুধবার দুই জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড | নতুন আইন পাস

Update Time : ০৯:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। নতুন এই আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই পুরোনো আইন সংশোধন করা হয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর আগের আইনটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর না হওয়ায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’কে আইনি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা, হ্যাকিং বা গোপন করার মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

এছাড়া পরীক্ষাকক্ষে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বা পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করলেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের বিষয়ে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ করা, প্রচার করা বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।

নতুন আইনে অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অবৈধ পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম পেল নতুন থানা, নিকারের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম বন্ধ করতেও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম নম্বর দেওয়া কিংবা ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি যথাযথ সতর্কতা নিয়েছিলেন, তাহলে তিনি দায়মুক্তি পাবেন।

আরও পড়ুন  এন্ট্রি-লেভেল প্রাইভেট ডাক্তারদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে কমিটি গঠন

অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশুদের বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী হুইসেলব্লোয়ারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনের আওতায় সব অপরাধকে আমলযোগ্য করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সরকার মনে করছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে বাড়তে থাকা পরীক্ষা জালিয়াতি বন্ধে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন আইন কার্যকর হলে দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরি হবে।