এন্ট্রি-লেভেল প্রাইভেট ডাক্তারদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের কম বেতন ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, কমিটিটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজে কর্মরত এন্ট্রি-লেভেল চিকিৎসকদের বর্তমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত, যৌক্তিক এবং মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামোর খসড়া তৈরি করা হবে।
কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) মহাপরিচালক। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব, চিকিৎসা শিক্ষা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটি সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করবে এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়ন করবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা অতিরিক্ত সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। কমিটিকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে বেতন ও কর্মপরিবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের অনেকেই সরকারি খাতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ন্যায্য বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৈঠকের পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব কোয়ামরুজ্জামান চৌধুরী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-কে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ট্রি-লেভেল প্রাইভেট ডাক্তারদের বেতন কাঠামো উন্নত করা গেলে চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসকদের বেসরকারি খাতে ধরে রাখতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


























