বিরোধী দলের ক্ষমতার ভাগের সংস্কার নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ এখন রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাগাভাগির চেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কার্যকর সংস্কার দেখতে চায়। বিরোধী দল সেই বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু ক্ষমতার সমীকরণ নিয়েই বেশি আলোচনা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেকসই সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। এসব খাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বাস্তবমুখী সংস্কার দরকার। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, সরকারি হাসপাতালের আধুনিকায়ন, চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের অংশ হলেও জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক ভূমিকা রাখা উচিত। তিনি বলেন, শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করলে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনগণ চায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির সুফল ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কার ইস্যু বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক বিষয়। ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনে এই ইস্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



























