ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায় Logo ত্বক ও চুলের যত্নে ডিম, কীভাবে ব্যবহার করবেন Logo তিলের বীজ খেলে কী হয়? জানুন বিজ্ঞান যা বলছে Logo বিশ্বকাপের নায়ক কুকুরেয়া, মাঠের বাইরের লড়াই আরও কঠিন Logo প্রথমবার প্রাকৃতিক আবাসে দেখা মিলল আর্কটিক ববটেইল স্কুইডের Logo বিশ্বকাপের সেরা ১০ তারকা প্রকাশ, শীর্ষে মেসি Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল ফের হবে? যা বললেন পোরো Logo পুরুষদের তুলনায় নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা Logo চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের শাহসুফি সৈয়্যদ মুহাম্মদ মমতাজ আলী ১৭তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত Logo বর্ষায় কোন সবজিগুলো খেলে বাড়তে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি?

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। (ছবি: সংগৃহীত)

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পাঠান। পরে স্পিকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় উঠবেন।

স্পিকার জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পাঠানো চিঠিতে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতা এবং সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া অটোনমিক নিউরোপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শারীরিক সমস্যার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই দায়িত্ব ছাড়ায় এখন সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

পদত্যাগপত্রে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মূল্যায়নও তুলে ধরেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, ওই সময় দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁর পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও পৃথক বিবৃতিতে পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায়

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায়

Update Time : ০৩:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পাঠান। পরে স্পিকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় উঠবেন।

স্পিকার জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পাঠানো চিঠিতে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতা এবং সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া অটোনমিক নিউরোপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শারীরিক সমস্যার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  হাসনাত আবদুল্লাহর শক্তিশালী বার্তা: দেশের স্বার্থে সংস্কার আমাদেরই দায়িত্ব

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই দায়িত্ব ছাড়ায় এখন সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

পদত্যাগপত্রে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মূল্যায়নও তুলে ধরেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, ওই সময় দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আরও পড়ুন  ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে হট্টগোল: ঐকমত্য ছাড়াই মুলতবি হলো অধিবেশন

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁর পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও পৃথক বিবৃতিতে পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে শেষ হলো জল্পনা