ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমাচলে পাহাড়ধসে চাপা গাড়ি, নিহত ১৩ জন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০২

হিমাচলে পাহাড়ধসে চাপা পড়ে যাত্রীবাহী গাড়ি। (ছবি: সংগৃহীত)

হিমাচল প্রদেশের লাহৌল-স্পিতি জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে যাত্রীবাহী একটি গাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাড়ির চালকও রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছে প্রশাসন ও পুলিশ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার উদয়পুর-কিলার সড়কের কাহু-দু নালা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় টাটা সুমো গাড়িটি কুল্লু থেকে পাঙ্গির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। পথে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ভেঙে বিশাল পাথর ও মাটির স্তূপ গাড়িটির ওপর এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিন্ডি থানা পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং উদ্ধারকারী দল। তারা পাথর ও মাটির স্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে গাড়িচালক বীর সিংও রয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অন্যদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, এই একই উদয়পুর-কিলার সড়কে বৃহস্পতিবারও অন্য একটি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছিল। সেই সময় সড়কটি সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী অনেক যাত্রীকে টিন্ডি এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শুক্রবার আবার সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।

সড়ক চালু হওয়ার পর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে কিছু দূর এগোতেই আবারও পাহাড়ের অংশ ভেঙে পড়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল পাথর ও মাটির স্তূপ গাড়িটিকে সম্পূর্ণ চাপা দেয়। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে সংকীর্ণ ও দুর্গম সড়কগুলোতে যাতায়াতের সময় এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ কারণে প্রশাসন নিয়মিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখে।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমাচলে পাহাড়ধসে চাপা গাড়ি, নিহত ১৩ জন

Update Time : ০৫:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

হিমাচল প্রদেশের লাহৌল-স্পিতি জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে যাত্রীবাহী একটি গাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাড়ির চালকও রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছে প্রশাসন ও পুলিশ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার উদয়পুর-কিলার সড়কের কাহু-দু নালা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় টাটা সুমো গাড়িটি কুল্লু থেকে পাঙ্গির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। পথে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ভেঙে বিশাল পাথর ও মাটির স্তূপ গাড়িটির ওপর এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন  ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ১৮ মৃত্যু, ভাঙছে সব রেকর্ড

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিন্ডি থানা পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং উদ্ধারকারী দল। তারা পাথর ও মাটির স্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে গাড়িচালক বীর সিংও রয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অন্যদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  ভূমিকম্পে সন্তানকে বাঁচাতে নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা

জানা গেছে, এই একই উদয়পুর-কিলার সড়কে বৃহস্পতিবারও অন্য একটি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছিল। সেই সময় সড়কটি সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী অনেক যাত্রীকে টিন্ডি এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শুক্রবার আবার সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।

সড়ক চালু হওয়ার পর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে কিছু দূর এগোতেই আবারও পাহাড়ের অংশ ভেঙে পড়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল পাথর ও মাটির স্তূপ গাড়িটিকে সম্পূর্ণ চাপা দেয়। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  আজকের বিনিময় হার: গুরুত্বপূর্ণ ডলার স্থির, কমল ইউরো-পাউন্ড

পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে সংকীর্ণ ও দুর্গম সড়কগুলোতে যাতায়াতের সময় এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ কারণে প্রশাসন নিয়মিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখে।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।