হামাস গাজার শাসনভার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা হামাস এবার নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের পথ আরও সহজ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যে এটি হামাসের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০০৭ সালে ফাতাহর সঙ্গে সংঘর্ষে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকে উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব তাদের হাতেই ছিল। তবে গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকেই সংগঠনটি একাধিকবার জানিয়েছিল, তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়তে প্রস্তুত। যদিও নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (NCAG)-এর কাছে সরকারি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ হয়। হামাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে নতুন কাঠামোর অধীনে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, হামাস আর গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে না। তার দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অজুহাত কমে আসবে। তিনি আরও জানান, নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হামাস প্রস্তুত রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ফলে টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন NCAG-এর জন্য গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে এই কমিটি এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতির কারণে তারা গাজার বাইরে অবস্থান করছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম ধাপে জিম্মি বিনিময় এবং বন্দি মুক্তির মতো কয়েকটি বিষয় বাস্তবায়িত হলেও দ্বিতীয় ধাপ এখনও অগ্রসর হয়নি। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও সম্প্রসারণ করেছে। একই সময়ে গাজায় সামরিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজা উপত্যকার বড় অংশে তাদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে হামাস গাজার শাসনভার নিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ কতটা এগোয়, সেদিকেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।




























