ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগের ১১তম আসরের পর্দা নামল বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেওয়া শিক্ষক খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। বিজয়ী ও সেরা পারফর্মারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর।
প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণ
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
টিচার্স ক্রিকেট লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে টিচার্স ক্রিকেট লীগের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
চ্যাম্পিয়ন দুর্বার একাত্তর
এবারের ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ‘দুর্বার একাত্তর‘।
ফাইনালসহ পুরো টুর্নামেন্টে দলটি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দারুণ নৈপুণ্য দেখায়। ফলে শিরোপা জিতে মৌসুম শেষ করে তারা।
অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই করেও রানার্সআপ হয় ‘উত্তাল উনসত্তর’।
প্রতিযোগিতায় আরও অংশ নিয়েছিল ‘মহান একুশে‘ এবং ‘জাগ্রত জুলাই‘ নামে দুটি দল। চার দলের অংশগ্রহণে এবারের আসরটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত।
ব্যক্তিগত পুরস্কারে যারা সেরা
দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে।
প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ
চ্যাম্পিয়ন দল দুর্বার একাত্তর-এর গণিত বিভাগের শিক্ষক মো. জসীম উদ্দিন টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ‘ নির্বাচিত হন।
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক
একই দলের হাসান ফারুক ১৪৫ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার জিতে নেন। ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইমার্জিং প্লেয়ার
রানার্সআপ উত্তাল উনসত্তর দলের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আলিফ মোহাম্মদ খান নির্বাচিত হন ‘ইমার্জিং প্লেয়ার‘ হিসেবে।
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি
একই সঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করে ১২টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কারও জিতে নেন আলিফ মোহাম্মদ খান।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার মঞ্চ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগ সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম সফল আয়োজন। এখানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা নিজেদের ব্যস্ত একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি মাঠে নেমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেন।
এ ধরনের আয়োজন শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষক।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সাইখ ইমতিয়াজ।
নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্তি
পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, অতিথি ও আমন্ত্রিত সুধীজনদের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়ী দল ও পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান উপস্থিত অতিথি ও সহকর্মীরা।
এক নজরে ফলাফল
- চ্যাম্পিয়ন: দুর্বার একাত্তর
- রানার্সআপ: উত্তাল উনসত্তর
- প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: মো. জসীম উদ্দিন
- সর্বোচ্চ রান: হাসান ফারুক (১৪৫)
- ইমার্জিং প্লেয়ার: আলিফ মোহাম্মদ খান
- সর্বোচ্চ উইকেট: আলিফ মোহাম্মদ খান (১২)
ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগ আবারও প্রমাণ করেছে, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিক্ষক সমাজের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্বের চর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সফলভাবে শেষ হওয়া ১১তম আসরের পর আগামী মৌসুমের জন্য এখন থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।


























