প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন?
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—
- মামুন লস্কার সরকার
- ওমর ফারুক রবিন (রবিন তাজ নামে পরিচিত)
- জয়নাল আবেদীন মানিক
- হেলাল উদ্দিন
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার রাতেই মামুন ও রবিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে শনিবার পৃথক অভিযানে মানিক ও হেলালকে আটক করা হয় এবং রবিবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
আদালতের আদেশ
আদালত জয়নাল আবেদীন মানিককে চার দিনের এবং হেলাল উদ্দিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
ওসি দাউদ হোসেন বলেন, বর্তমানে মানিক ও হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামুন লস্কার সরকার ও ওমর ফারুক রবিনের বিরুদ্ধেও রিমান্ড আবেদন করা হবে।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু পোস্টদাতাই নন, পোস্ট তৈরিতে, প্রচারে বা সমন্বয়ে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ডিভাইস এবং যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তে কী দেখা হচ্ছে?
তদন্ত কর্মকর্তারা কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করছেন—
- মানহানিকর পোস্টগুলোর মূল উৎস কে।
- পোস্টগুলো কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
- এককভাবে নাকি সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
- অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
- ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের সঙ্গে পোস্টগুলোর মিল রয়েছে কি না।
আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর ডিজিটাল আলামত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিমান্ডে থাকা দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পটভূমি জানার চেষ্টা চলছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



























