দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে ভোটের আগেই প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। সহসভাপতি পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সামসুল আলম-এর মনোনয়ন বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
রোববার (৫ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের জন্য ৪০ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকায় খোরশেদ আলম খসরু ও সামসুল আলমের নাম না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত পৃথক একটি তালিকায় বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নাম ও কারণও প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন বাতিল হলো মনোনয়ন?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৮(৪) ধারা অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদ কোনো ব্যক্তি নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে অন্তত এক মেয়াদ বিরতি দিতে হবে। এই বিধান অনুসারে খোরশেদ আলম খসরু ও সামসুল আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ফেডারেশনসহ সব বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদে কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করার পর অন্তত একটি মেয়াদ নির্বাচন থেকে বিরত না থেকে আবার প্রার্থী হতে পারবেন না।
কী বলছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা?
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর এটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের নেতৃত্বে থাকার প্রবণতা কমবে এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনেও দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের একটি অংশে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইন অনুযায়ী নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা বা আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।
নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট, প্রযোজকদের স্বার্থরক্ষা, চলচ্চিত্র বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগামী কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে উঠলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন, আধুনিক সিনেমা হল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রসারে নতুন কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নির্বাচন কবে?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৮ আগস্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং কার্যনির্বাহী সদস্যসহ বিভিন্ন পদে ভোটগ্রহণ হবে। বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর এখন প্রচারণা এবং ভোটের প্রস্তুতি শুরু হবে।
সামনে কী হতে পারে?
মনোনয়ন বাতিল হওয়া দুই প্রার্থী চাইলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল বা আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন শুরুর আগেই দুই আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন সবার নজর বৈধ প্রার্থীদের প্রচারণা, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আগামী ৮ আগস্টের ভোটের দিকে।

























