ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বলিউডে নারী–পুরুষের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন কৃতি স্যানন

বলিউডে নারী অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন কৃতি স্যানন। ছবি: সংগৃহীত

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। তাঁর মতে, সময় বদলালেও বলিউডে এখনো নারী ও পুরুষ শিল্পীদের সমানভাবে দেখা হয় না। একই কাজ করলেও নারী অভিনেত্রীদের অনেক সময় ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয় এবং সেটে তাঁদের প্রতি আচরণও পুরুষ অভিনেতাদের তুলনায় আলাদা থাকে।

সম্প্রতি ইউটিউবার ও উপস্থাপক লিলি সিংয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে নিজের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃতি। তিনি বলেন, মডেলিং ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও বলিউডই তাঁর কাছে সবচেয়ে কঠিন কর্মক্ষেত্র বলে মনে হয়েছে। কারণ, এখানে প্রতিভার পাশাপাশি নানা ধরনের অদৃশ্য চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়।

কৃতি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি দেখেছেন, বেশিরভাগ মূলধারার সিনেমা পুরুষকেন্দ্রিক ছিল। নারী চরিত্রগুলোকে অনেক সময় শুধু নায়কের প্রেমিকা বা সহায়ক চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও গল্প তৈরি হচ্ছে। তবুও সমান সুযোগের ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য প্রসঙ্গে আরও বলেন, শুটিং সেটেও নারী ও পুরুষ অভিনেতাদের সঙ্গে ভিন্নভাবে আচরণ করা হয়। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সহকারী পরিচালকরা পুরুষ তারকাদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশি সতর্ক থাকেন। অন্যদিকে নারী অভিনেত্রীদের কাছ থেকে সব সময় সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রত্যাশা করা হয়। এই পার্থক্য অনেক সময় কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি নিজের চরিত্র, সংলাপ কিংবা দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে তিনি পরিচালক বা টিমের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু একই আচরণ পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মনে হলেও, নারী অভিনেত্রীরা প্রশ্ন করলে তাঁদের অনেক সময় ‘কঠিন’ বা ‘অতিরিক্ত প্রশ্ন করেন’—এমন তকমা দেওয়া হয়। কৃতির মতে, এই মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—সম্মান ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। শিল্পের মান উন্নত করতে হলে সবার মতামতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত, কারণ সেটি কাজকে আরও ভালো করারই অংশ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে নারীপ্রধান সিনেমার সংখ্যা বাড়ছে। কৃতি স্যানন নিজেও এমন কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেখানে নারী চরিত্রই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর বিশ্বাস, ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে, তবে সেই পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে নিতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু বলিউড নয়, বিশ্বের অনেক চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই আলোচনার বিষয় হতে পারে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা নতুন করে নারী শিল্পীদের কর্মপরিবেশ, সমান সুযোগ এবং পেশাগত সম্মান নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বলিউডে নারী–পুরুষের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন কৃতি স্যানন

Update Time : ০৯:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। তাঁর মতে, সময় বদলালেও বলিউডে এখনো নারী ও পুরুষ শিল্পীদের সমানভাবে দেখা হয় না। একই কাজ করলেও নারী অভিনেত্রীদের অনেক সময় ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয় এবং সেটে তাঁদের প্রতি আচরণও পুরুষ অভিনেতাদের তুলনায় আলাদা থাকে।

সম্প্রতি ইউটিউবার ও উপস্থাপক লিলি সিংয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে নিজের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃতি। তিনি বলেন, মডেলিং ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও বলিউডই তাঁর কাছে সবচেয়ে কঠিন কর্মক্ষেত্র বলে মনে হয়েছে। কারণ, এখানে প্রতিভার পাশাপাশি নানা ধরনের অদৃশ্য চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়।

কৃতি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি দেখেছেন, বেশিরভাগ মূলধারার সিনেমা পুরুষকেন্দ্রিক ছিল। নারী চরিত্রগুলোকে অনেক সময় শুধু নায়কের প্রেমিকা বা সহায়ক চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও গল্প তৈরি হচ্ছে। তবুও সমান সুযোগের ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন  সামান্থার ১০০ কোটির ব্লকবাস্টার ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’এবার OTT-তে

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য প্রসঙ্গে আরও বলেন, শুটিং সেটেও নারী ও পুরুষ অভিনেতাদের সঙ্গে ভিন্নভাবে আচরণ করা হয়। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সহকারী পরিচালকরা পুরুষ তারকাদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশি সতর্ক থাকেন। অন্যদিকে নারী অভিনেত্রীদের কাছ থেকে সব সময় সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রত্যাশা করা হয়। এই পার্থক্য অনেক সময় কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

আরও পড়ুন  অনিরুদ্ধের বিয়ে: গ্রিসে পাত্রী কাব্য মারান?

অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি নিজের চরিত্র, সংলাপ কিংবা দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে তিনি পরিচালক বা টিমের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু একই আচরণ পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মনে হলেও, নারী অভিনেত্রীরা প্রশ্ন করলে তাঁদের অনেক সময় ‘কঠিন’ বা ‘অতিরিক্ত প্রশ্ন করেন’—এমন তকমা দেওয়া হয়। কৃতির মতে, এই মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—সম্মান ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। শিল্পের মান উন্নত করতে হলে সবার মতামতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত, কারণ সেটি কাজকে আরও ভালো করারই অংশ।

আরও পড়ুন  এক রাতেই বদলে গেল লাক্স সুন্দরী বর্ণিতার জীবন: ৮-৯ বছরের অপেক্ষার সফল সমাপ্তি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে নারীপ্রধান সিনেমার সংখ্যা বাড়ছে। কৃতি স্যানন নিজেও এমন কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেখানে নারী চরিত্রই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর বিশ্বাস, ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে, তবে সেই পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে নিতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

কৃতি স্যানন বলিউড বৈষম্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু বলিউড নয়, বিশ্বের অনেক চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই আলোচনার বিষয় হতে পারে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা নতুন করে নারী শিল্পীদের কর্মপরিবেশ, সমান সুযোগ এবং পেশাগত সম্মান নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।