ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। | ছবি: সংগৃহীত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন তিনি। রাজপথের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে এবার বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। অব্যবহৃত ছিল ৬টি ব্যালট।

ভোটের ফল প্রকাশের পরই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও তাকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে ঘিরে সংসদে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

যদিও ভোটের ফলাফলে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী নিয়ে ভোট হওয়ায় এবারের নির্বাচন পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বিএনপি। এরপরই দলের মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযাত্রীদের কাছ থেকে শেষবারের মতো বিদায় নেওয়ার কথা জানান।

এর আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার সময়ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মির্জা ফখরুল। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলার পর এবার তার সামনে নতুন দায়িত্ব। দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এখন পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এরপর শুক্রবার বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজপথের সক্রিয় রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনের সাংবিধানিক দায়িত্ব—মির্জা ফখরুলের এই যাত্রা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি পরিচালনায় কতটা কাজে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৬:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন তিনি। রাজপথের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে এবার বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। অব্যবহৃত ছিল ৬টি ব্যালট।

আরও পড়ুন  নিষিদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সংসদে সংশোধিত অধ্যাদেশ

ভোটের ফল প্রকাশের পরই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও তাকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে ঘিরে সংসদে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

যদিও ভোটের ফলাফলে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী নিয়ে ভোট হওয়ায় এবারের নির্বাচন পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বিএনপি। এরপরই দলের মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযাত্রীদের কাছ থেকে শেষবারের মতো বিদায় নেওয়ার কথা জানান।

এর আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার সময়ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মির্জা ফখরুল। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ: ৩৫ বছর পর ভোটের লড়াই

রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলার পর এবার তার সামনে নতুন দায়িত্ব। দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এখন পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এরপর শুক্রবার বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজপথের সক্রিয় রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনের সাংবিধানিক দায়িত্ব—মির্জা ফখরুলের এই যাত্রা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি পরিচালনায় কতটা কাজে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।