ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন কায়সার কামাল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। | ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এমন অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় কী হবে।

পরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, রাষ্ট্রপতির শপথ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে দিয়ে পড়াতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করায় তাকে শপথ পড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে স্পিকারের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। অর্থাৎ স্পিকার অনুপস্থিত থাকায় তার দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক ক্ষমতা বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেপুটি স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করছেন, তাই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তার কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। এ মতামতের পর শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয়েছে।

ফলে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তবে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে যে আইনি প্রশ্ন উঠেছিল, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের মাধ্যমে তারও সমাধান হলো।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের বঙ্গভবন অনুষ্ঠান এখন নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন কায়সার কামাল

Update Time : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এমন অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় কী হবে।

পরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, রাষ্ট্রপতির শপথ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে দিয়ে পড়াতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করায় তাকে শপথ পড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

আরও পড়ুন  পদ্মায় ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল খণ্ডিত হাত-পা

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে স্পিকারের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। অর্থাৎ স্পিকার অনুপস্থিত থাকায় তার দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক ক্ষমতা বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাক রপ্তানিকারদের বৈঠক

আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেপুটি স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করছেন, তাই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তার কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। এ মতামতের পর শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয়েছে।

ফলে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রপতির শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তবে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে যে আইনি প্রশ্ন উঠেছিল, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের মাধ্যমে তারও সমাধান হলো।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের বঙ্গভবন অনুষ্ঠান এখন নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।