বৃষ্টি কিংবা ছুটির দিনে গরম গরম খিচুড়ি হলে জমে যায় খাবারের আয়োজন। আর সেই খিচুড়িতে যদি মিশে যায় আচারের টক-ঝাল স্বাদ, তাহলে সাধারণ খিচুড়িও হয়ে উঠতে পারে একেবারে ভিন্ন স্বাদের। ঘরেই সহজে তৈরি করতে পারেন আচারি ভুনা খিচুড়ি।
চাল, মুগডাল, মটরশুঁটি, বিভিন্ন মসলা ও আচারের সমন্বয়ে তৈরি এই খিচুড়ির স্বাদ যেমন মজার, তেমনি এর ঘ্রাণও বেশ আকর্ষণীয়। সঙ্গে ভাজা ডিম, বেগুন ভাজা, আলু ভর্তা কিংবা আচার থাকলে খাবারের আয়োজন আরও জমে উঠবে।
উপকরণ
- পোলাওয়ের চাল — দেড় কেজি
- মুগডাল — আধা কেজি
- মটরশুঁটি — ২ কাপ
- তেলসহ আচার — ৪ টেবিল চামচ
- গরম পানি — ৩ কেজি
- রসুনকুচি — ২ টেবিল চামচ
- পেঁয়াজকুচি — ১ কাপ
- আস্ত জিরা — ১ টেবিল চামচ
- কাঁচা মরিচ — ১০–১২টি
- এলাচ — ৬টি
- দারুচিনি — ৫–৬ টুকরা
- তেজপাতা — ৪টি
- আদাবাটা — ২ টেবিল চামচ
- রসুনবাটা — ১ টেবিল চামচ
- হলুদগুঁড়া — ২ টেবিল চামচ
- মরিচগুঁড়া — ১ টেবিল চামচ
- ধনেগুঁড়া — ১ টেবিল চামচ
- মেথিগুঁড়া — ১ চা-চামচ
- তেল — দেড় কাপ
- ঘি — ২ টেবিল চামচ
- জায়ফল ও জয়ত্রীগুঁড়া — ১ চা-চামচ
- বোম্বাই মরিচ — ২টি
- লবণ — স্বাদমতো
প্রণালি
প্রথমে মুগডাল শুকনা কড়াইয়ে হালকা করে ভেজে নিন। এরপর চাল ও ভাজা ডাল ভালোভাবে ধুয়ে পানিতে প্রায় ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। সময় হলে পানি ঝরিয়ে আলাদা করে রাখুন।
এবার বড় একটি পাত্রে তেল গরম করুন। তেলে এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। সুগন্ধ বের হলে পেঁয়াজকুচি ও রসুনকুচি দিয়ে ভাজতে থাকুন। পেঁয়াজে হালকা বাদামি রং এলে রান্নার মূল মসলার প্রস্তুতি শুরু করুন।
পাত্রে আদাবাটা, রসুনবাটা, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া, ধনেগুঁড়া এবং জায়ফল-জয়ত্রীগুঁড়া দিয়ে দিন। মসলার সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে ভালোভাবে কষাতে থাকুন। মসলা থেকে তেল আলাদা হয়ে এলে বুঝবেন কষানো ঠিক হয়েছে।
এরপর পাত্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গরম পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটতে শুরু করলে ভেজানো চাল ও ডাল এবং মটরশুঁটি দিয়ে দিন। এবার স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে রান্না করতে থাকুন।
চাল ও ডাল ফুটে আসার পর আস্ত জিরা, তেলসহ আচার এবং মেথিগুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। আচারের পরিমাণ নিজের স্বাদ অনুযায়ী সামান্য কম-বেশি করা যেতে পারে। এবার পাত্রের ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।
পানি কমে চাল ও পানির পরিমাণ প্রায় সমান হয়ে এলে খিচুড়ি একবার ভালোভাবে নেড়ে দিন। এরপর মাঝখানে একটু চূড়া করে তার ওপর ঘি ছড়িয়ে দিন। বোম্বাই মরিচ দুটি বোঁটাসহ লম্বালম্বি দুই ভাগ করে খিচুড়ির ওপর সাজিয়ে দিন।
সবশেষে পাত্রটি ফয়েল পেপার দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে তার ওপর ঢাকনা দিন। একটি তাওয়া গরম করে তার ওপর পাত্র বসিয়ে একেবারে মৃদু আঁচে প্রায় ২০ মিনিট দমে রাখুন। এতে চাল-ডালের সঙ্গে আচারের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে এবং খিচুড়িতে সুন্দর ঘ্রাণ আসবে।
২০ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঢাকনা খুলে বোম্বাই মরিচগুলো সরিয়ে ফেলুন। গরম গরম আচারি ভুনা খিচুড়ি পরিবেশন করুন।
পরিবেশনের পরামর্শ
এই খিচুড়ির সঙ্গে বেগুন ভাজা, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি, শসা-পেঁয়াজের সালাদ কিংবা অতিরিক্ত আচার পরিবেশন করতে পারেন। চাইলে পাশে মাংস বা চিকেনের কোনো পদও রাখতে পারেন। আচারের টক-ঝাল স্বাদের কারণে সাধারণ ভুনা খিচুড়ির তুলনায় এটি একটু বেশি মুখরোচক ও ঝালঝালে হবে।
ছুটির দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে দুপুরের খাবারে কিংবা বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই আচারি ভুনা খিচুড়ি হতে পারে দারুণ একটি আয়োজন।




























