গোবিন্দ সুনিতার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় এবার নতুন মোড় এসেছে। বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর স্ত্রী সুনিতা আহুজা তাঁর করা বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দর ম্যানেজার শশী সিনহা। দীর্ঘদিন ধরে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চললেও মামলা প্রত্যাহারের পর তাদের দাম্পত্য জীবনের বর্তমান অবস্থাকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করলেও তারা আবার আগের মতো সম্পর্কে ফিরেছেন কি না, সে বিষয়ে দুজনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গোবিন্দ সুনিতা সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রার একটি আদালতে দেখা যায় সুনিতা আহুজাকে। প্রথমে আদালতে যাওয়ার কারণ স্পষ্ট ছিল না। পরে গোবিন্দর ম্যানেজার জানান, সুনিতা তাঁর করা বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করতে আদালতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শশী সিনহা পারিবারিক সমস্যা আদালত পর্যন্ত পৌঁছানোয় হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং অনেক সমস্যাই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোবিন্দর ম্যানেজার পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় অসন্তোষ জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক বিষয় সাধারণত পরিবারের মধ্যেই থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যা হলে পরিবারের সদস্যরা বসে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন। আদালতে মামলা যাওয়ার পর বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জনসমক্ষে চলে আসে। এদিকে মামলা প্রত্যাহারের পর গোবিন্দর নিজের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। শশী সিনহা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
গোবিন্দ সুনিতা দাম্পত্যে টানাপোড়েনের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। এরপর সুনিতার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে সুনিতা গোবিন্দকে বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। গত বছর গণেশ চতুর্থীর একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তারা। তখন সুনিতা জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সত্যিই দূরত্ব থাকলে তারা এভাবে একসঙ্গে থাকতেন না। এমনকি কোনো শক্তিই তাদের আলাদা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এরপর গোবিন্দর ‘রূপা’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকরকে ঘিরে সুনিতার একটি মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করে। অভিনেত্রীকে নিয়ে গোবিন্দর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তাঁকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন সুনিতা। এর জবাবে গোবিন্দ পাল্টা বক্তব্য দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, নতুন সিনেমার কাজ শুরুর পর তাঁকে মানুষের কাছে খারাপভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে এবং তাঁর পেশাগত কাজ ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের কাজ ও ব্যবসায় অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার কথাও জানান তিনি। এসব বক্তব্যের পর দাম্পত্য টানাপোড়েনের আলোচনা আরও জোরালো হয়।
১৯৮৭ সালের মার্চে বিয়ে করেন গোবিন্দ ও সুনিতা আহুজা। শুরুতে তাদের বিয়ের বিষয়টি দীর্ঘ সময় গোপন রাখা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে মেয়ে টিনা আহুজার জন্মের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ১৯৯৭ সালে তাদের ছেলে যশবর্ধনের জন্ম হয়। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের দাম্পত্যে নানা সময় গুঞ্জন ও বিতর্ক সামনে এলেও এবার বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার নতুন একটি অধ্যায় তৈরি করেছে। তবে মামলা প্রত্যাহার মানেই সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুজনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা থাকছেই।
























