ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছরের সংসার ভাঙার কারণ জানালেন শুভাঙ্গী আত্রে

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন আলোচনায় শুভাঙ্গী আত্রে। ছবি: সংগৃহীত

শুভাঙ্গী আত্রে দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পেছনের কারণ নিয়ে আবারও খোলামেলা কথা বলেছেন। ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়!’ ধারাবাহিকে ‘অঙ্গুরি ভাবি’ চরিত্রে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর দাবি, সাবেক স্বামী পীযূষ পুরের দীর্ঘদিনের মদ্যপানের আসক্তিই তাদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ। সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি বহুবার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন শুভাঙ্গী।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ করেন শুভাঙ্গী আত্রে ও পীযূষ পুরে। বিচ্ছেদের মাত্র দুই মাস পর লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, বিয়ের শুরুর দিকে তিনি স্বামীর আসক্তির গভীরতা বুঝতে পারেননি। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সেটি গুরুতর রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে পারিবারিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

শুভাঙ্গীর ভাষ্য, পীযূষ এতটাই দক্ষতার সঙ্গে নিজের মদ্যপানের বিষয়টি আড়াল করতেন যে অনেক সময় তিনি বুঝতেই পারতেন না স্বামী স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন, নাকি নেশাগ্রস্ত। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো অতিরিক্ত কাজের কারণে ক্লান্ত থাকেন। কিন্তু পরে শারীরিক পরিবর্তন এবং আচরণে তার প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক নেই এবং সম্পর্কটি সুস্থভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

অভিনেত্রী আরও জানান, পীযূষ কখনো তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করলেও আসক্তির কারণে ধীরে ধীরে নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। শুভাঙ্গীর মতে, একটি সফল দাম্পত্যে মানসিক, আর্থিক, ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারবার স্বামীকে নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসক্তিই পীযূষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

একসময় পুরো পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও শুভাঙ্গীর কাঁধে এসে পড়ে। তিনি জানান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে তাদের প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। কারণ, তিনি কোনোভাবেই সংসার ভাঙতে চাননি। বিশেষ করে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি চেয়েছিলেন, সন্তান যেন মা-বাবার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বড় হতে পারে। এমনকি স্বামীকে পুনর্বাসনকেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

শুভাঙ্গী আত্রে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অভিনয়জীবনে সফল হওয়ার কারণে তিনি সংসার ছাড়েননি। বরং বহু বছর ধরে সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ সালের দিকে পীযূষের আসক্তি আরও বেড়ে যায় এবং সেখান থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তারা। অভিনেত্রীর এই খোলামেলা বক্তব্য আবারও আসক্তির মতো জটিল সমস্যার পারিবারিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২২ বছরের সংসার ভাঙার কারণ জানালেন শুভাঙ্গী আত্রে

Update Time : ১০:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

শুভাঙ্গী আত্রে দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পেছনের কারণ নিয়ে আবারও খোলামেলা কথা বলেছেন। ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়!’ ধারাবাহিকে ‘অঙ্গুরি ভাবি’ চরিত্রে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর দাবি, সাবেক স্বামী পীযূষ পুরের দীর্ঘদিনের মদ্যপানের আসক্তিই তাদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ। সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি বহুবার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন শুভাঙ্গী।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ করেন শুভাঙ্গী আত্রে ও পীযূষ পুরে। বিচ্ছেদের মাত্র দুই মাস পর লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, বিয়ের শুরুর দিকে তিনি স্বামীর আসক্তির গভীরতা বুঝতে পারেননি। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সেটি গুরুতর রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে পারিবারিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

আরও পড়ুন  সালমানের মাতৃভূমি বড় সংকটে, সেন্সরে মিলছে না ছাড়পত্র

শুভাঙ্গীর ভাষ্য, পীযূষ এতটাই দক্ষতার সঙ্গে নিজের মদ্যপানের বিষয়টি আড়াল করতেন যে অনেক সময় তিনি বুঝতেই পারতেন না স্বামী স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন, নাকি নেশাগ্রস্ত। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো অতিরিক্ত কাজের কারণে ক্লান্ত থাকেন। কিন্তু পরে শারীরিক পরিবর্তন এবং আচরণে তার প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক নেই এবং সম্পর্কটি সুস্থভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

অভিনেত্রী আরও জানান, পীযূষ কখনো তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করলেও আসক্তির কারণে ধীরে ধীরে নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। শুভাঙ্গীর মতে, একটি সফল দাম্পত্যে মানসিক, আর্থিক, ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারবার স্বামীকে নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসক্তিই পীযূষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা?

একসময় পুরো পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও শুভাঙ্গীর কাঁধে এসে পড়ে। তিনি জানান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে তাদের প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। কারণ, তিনি কোনোভাবেই সংসার ভাঙতে চাননি। বিশেষ করে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি চেয়েছিলেন, সন্তান যেন মা-বাবার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বড় হতে পারে। এমনকি স্বামীকে পুনর্বাসনকেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

আরও পড়ুন  নিজের জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মাণ হতে পারে,বললেন শেহনাজ

শুভাঙ্গী আত্রে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অভিনয়জীবনে সফল হওয়ার কারণে তিনি সংসার ছাড়েননি। বরং বহু বছর ধরে সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ সালের দিকে পীযূষের আসক্তি আরও বেড়ে যায় এবং সেখান থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তারা। অভিনেত্রীর এই খোলামেলা বক্তব্য আবারও আসক্তির মতো জটিল সমস্যার পারিবারিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।