মেলবোর্নে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত বাংলা নাটক ‘ডিটেকটিভ’। স্থানীয় নাট্যদল অ্যাক্টোম্যানিয়ার দশম প্রযোজনা হিসেবে ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় পাঁচ মাসের প্রস্তুতির পর মঞ্চে ওঠা এই আয়োজনে অভিনয় করেছেন ২৫ জন শিল্পী। তাঁদের সঙ্গে নেপথ্যে ছিলেন আরও ৪৫ জন কর্মী।
‘ডিটেকটিভ’ নাটকে মানুষের কল্পনাপ্রবণতা, পেশার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গল্পকে মঞ্চে উপস্থাপনের সময় সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রদর্শনী দেখতে ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন খাদিজা বীথি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তিনি। ছায়ানটেও পড়াশোনা করেছেন খাদিজা বীথি। প্রায় দুই দশক ধরে মেলবোর্নের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি প্রায় পাঁচ মাস ধরে শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির মহড়া পরিচালনা করেছেন।
মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকটির বিভিন্ন নেপথ্য কাজেও স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা যুক্ত ছিলেন। মঞ্চসজ্জা, পোশাক, আবহসংগীত ও আলোক পরিকল্পনায় তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল। ফলে অভিনয়শিল্পী ও নেপথ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রস্তুতিতেই সম্পন্ন হয়েছে পুরো প্রযোজনাটি।
প্রবাসে নাট্যচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খাদিজা বীথি জানান, মেলবোর্নে একটি নাটক মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি এক দিনের বিষয় নয়। এর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় এবং প্রদর্শনীর পরও এর প্রভাব থেকে যায়। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথের ‘ডিটেকটিভ’-এর গল্প বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁদের আরও উৎসাহিত করেছে।
২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে অ্যাক্টোম্যানিয়া। ‘ডিটেকটিভ’ দলটির দশম প্রযোজনা। প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মকে বাংলা নাটক ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখাকে দলের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন জ্যেষ্ঠ সদস্য তরুণ ভট্টাচার্য। নতুনদের পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ত করাও দলের উদ্দেশ্য।
এর আগে ২০২৪ সালে খাদিজা বীথির নির্দেশনায় হুমায়ূন আহমেদের ‘আজ রবিবার’ মঞ্চস্থ করেছিল অ্যাক্টোম্যানিয়া। ওই প্রযোজনায় ‘দাদাজান’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তরুণ ভট্টাচার্য। ‘আজ রবিবার’-এর পর ‘ডিটেকটিভ’ নিয়েও দর্শকের ভালো সাড়া পাওয়ার কথা জানান তিনি।
নাটকটি দেখে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেও উঠে এসেছে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব। লেখক দিলরুবা শাহানা প্রবাসী নতুনদের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বিদেশের মাটিতেও বাংলা সংস্কৃতি এভাবে প্রাণবন্তভাবে চর্চা হতে দেখা আনন্দের।
দীর্ঘদিনের মেলবোর্নপ্রবাসী অধ্যাপক লুৎফর রহমান খানও নাটকটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নাটকের নির্মাণশৈলী, আবহসংগীত ও অভিনয়ের প্রশংসা করেন। সব মিলিয়ে পাঁচ মাসের প্রস্তুতি, ২৫ অভিনয়শিল্পী ও ৪৫ নেপথ্যকর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেলবোর্নের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ‘ডিটেকটিভ’। দর্শকের সাড়া প্রবাসে বাংলা নাটকের চর্চার প্রতি আগ্রহেরই প্রতিফলন।




























